লকডাউন ঘোষণার পরই বেড়ে গেল নিত্য পণ্যের দাম

11

>>চৌগাছায় লাগাম টেনে ধরতে চলেছে প্রশাসনের অভিযান
চৌগাছা(যশোর)প্রতিনিধি:লকডাউন ঘোষণার পরই যশোরের চৌগাছার বাজারে পেঁয়াজ, রসুন আলুসহ বিভিন্ন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিকাংশ নিত্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করেই মানুষ অধিক পণ্য কিনতে শহরে ভীড় জমাচ্ছেন। তারা যেন এক ধরণের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক লকডাউন কার্যকর করাসহ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঠিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছেন।
রবিবার সকাল থেকেই চৌগাছা বাজারে মানুষের ঢল নামতে থাকে। সব ধরণের মানুষের সরব উপস্থিতিতে সড়ক দোকানপাট সব জায়গায় মানুষ আর মানুষ। চৌগাছা স্বাধীনতা ভাস্কার্য মোড়ে সকাল থেকেই লেগে যাই যানজট, যা প্রায় সারাদিনই অব্যাহত থাকে। মুদি দোকানসহ প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে লম্বা লাইন দিয়ে ক্রেতাদের মালামাল ক্রয় করতে দেখা গেছে। এ সময় কিছু কিছু ব্যক্তি মাস্ক ব্যবহার করলেও অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার সোমবার হতে ৭ দিনের জন্য দেশব্যাপী লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। এ খবরে শহর ও শহরতলীর মানুষ কেনাকাটার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রবিবার সকাল হতে না হতেই ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ বাজারে প্রবেশ করেন। মানুষ ও যানবাহনের এতটাই চাপ বেড়ে যাই যে, সকাল ৯ টা থেকে শহরের ভাস্কর্য মোড়ে শুরু হয় নজিরবিহীন যানজট।
বাজার করতে আসা শাহিন মাহাবুর, মনিরুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম, সোহেল রানাসহ অনেকে জানান, সোমবার হতে ৭ দিনের লকডাউন, এরপর রোজা, বাজার পরিস্থিতি কেমন হয় তাই কেনাকাটা করতে এসেছি। তবে গতহাটের চেয়ে (আজ) রবিবার বাজারে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গতহাটে যে পেঁয়াজের দাম ছিল ২৭/২৮ টাকা কেজি তা (রোববার) আজ তার দাম ৫০ টাকা, ৪০ টাকা কেজির রসুনের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬০/৬৫ টাকা। ১২ টাকা কেজির আলু ১৫/১৬ টাকা হয়েছে। এভাবে প্রায় সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদ কিংবা পুজাতেও এ ধরণের বেচা কেনা হতে দেখা যায়নি। মানুষ কেনা কাটায় ব্যস্ত। সময় মত পণ্য দিতে না পারার কারণে অনেক ক্রেতা খালি প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
সবজি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেচা বিক্রি এতটাই বেড়ে যাই যে দুপুরের মধ্যে সব সবজি বিক্রি হয়ে যায়।
পোশাক বিক্রেতা আলী জানান, গতকাল অন্যান্য মালামালের সাথে পোশাকও বেশ বিক্রি হয়েছে।
এদিকে লকডাউন ঘোষণায় নিন্ম আয়ের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা দেখা গেছে। অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন আমাদের বাঁচার পথ রুদ্ধ হয়ে আসছে। লকডাউনে আয় না করতে পারলে কি ভাবে স্ত্রী সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিব-এমন প্রশ্ন করেন অনেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, সরকারের ঘোষিত লকডাউন কার্যকর করতে ও বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঠিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।
জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক।