লকডাউন:সাতক্ষীরায় বস্ত্র শ্রমিকদের বিক্ষোভ

10

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ৭দিনের লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বিক্ষোভ করেছেন বস্ত্র ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দোকানপাট খোলা রাখায় দুপুর ১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসময় শহরের সুলতানপুর বড়বাজার সড়কের মেসার্স ফাল্গুনী বস্ত্রালয়ে অভিযান চালালে শতশত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসে। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের বাঁধারমুখে ফিরে আসতে বাধ্য হন এসিল্যান্ড।
তারা এসময় ‘লকডাউন মানি না, মানব না’ বলে স্লোগান দেয়।
পরিস্থিতি দেখে আসাদুজ্জামান সদর থানা পুলিশকে ফোন দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে বস্ত্র ব্যবসায়ী কর্মচারী সমিতির সদস্যরা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। এসময় তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মানি না মানবো বলে স্লোগান দেয়।
দুপুর ১টা ১৫মিনিটের দিকে ওই সড়ক জুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন লকডাউন বিরোধী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। দুপুর দেড়টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনায় মিলিত হন।
বিক্ষোভের কারণে এসময় সড়কে যানজট দেখা দেয়। শ্রমিকরা সরকারের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরে বলেন, আমরা বাঁচতে চাই, দোকানপাট খুলতে চাই, লকডাউন মানি না, মানব না।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গত বছর লকডাউনে আমরা অনেক লোকসান করেছি। এই লকডাউনে মার্কেট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এবারও যদি দীর্ঘমেয়াদে লকডাউন দেয়া হয়, তাহলে আমরা খাব কী? দোকান ভাড়া, শ্রমিকদের বেতন এসব কীভাবে দেব-প্রশ্ন করেন ব্যবসায়ীরা।
এসময় ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আমাদের একটি নির্ধারিত সময় বেঁধে দেয়া হোক। আমরা সেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রেখে পরিবার-পরিজন নিয়ে যেন বাঁচতে পারি।
শ্রমিকরা বলেন, কোন উৎসবে আমরা বোনাস পাইনা। একদিন কাজে না আসলে বেতন পাইনা। দোকানপাট বন্ধ থাকলে আমাদের পরিবারেরর সদস্যরা কী খেয়ে বাঁচবে।
মোহিনী ফ্যাশনের কর্মচারী সুজন বলেন, দোকান খোলা থাকলে কর্মচারীরা মজুরি পায়, অন্যথায় পায় না। দোকান বন্ধ থাকলে কর্মচারীরা কী খেয়ে বাঁচবে? মালিকরাও কীভাবে মজুরী দিবেন? তিনি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলার জন্য দাবি জানান।
বস্ত্র ব্যবসায়ী কর্মচারী সমিতির সভাপতি কবির বলেন, গতবারের লকডাউনে আমাদের মানবের জীবন কেটেছে কোন প্রকার সাহায্য আমরা পায়নি। সরকারের কাছে দাবি সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করার অনুমতি দেয়া হবে। সমানে রোজার মাস কাজ না করলে খাবো কী। সরকার আমাদের বিষয়টি যেন দেখেন সেই দাবী করছি।
এদিকে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সাথে আলোচনা শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন।