রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছে জাতিসংঘ

27

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে   মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের   প্রস্তাব বিপুল ভোটে গৃহীত    হয়েছে  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৷

‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গত বুধবার রাতে বিপুল ভোটে জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তৃতীয় কমিটিতে চতুর্থবারের মতো সমর্থিত হয়েছে প্রস্তাবটি।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা প্রস্তাবটিকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন জানানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে, যা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে নিহিত রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের জরুরি সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা এই প্রস্তাবের মাধ্যমে আরো জোরদার হবে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে উত্থাপন করে। ১০৪টি দেশ প্রস্তাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। এটি মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অন্যান্য সহিংসতার শিকার নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিপুলসংখ্যক জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ।

রেজল্যুশনটির পক্ষে ভোট দেয় ১৩২টি দেশ, বিপক্ষে ৯টি। আর ভোটদানে বিরত থাকে ৩১টি দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ডসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আন্ত আঞ্চলিক জোটের সমর্থন ও সহপৃষ্ঠপোষকতা পায় প্রস্তাবটি।

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তী আদেশ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের তদন্ত শুরু এবং রোহিঙ্গা ও অন্য সংখ্যাালঘুদের মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অব্যাহতভাবে বঞ্চিত করার মতো নতুন বিষয়গুলো উঠে এসেছে এবারের প্রস্তাবে।

এ ছাড়া প্রস্তাবটিতে মিয়ানমারকে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। এগুলো হলো—রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদানসহ সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করা, প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

ভোটের আগে প্রস্তাবটির সমর্থনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে জার্মানির স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ওআইসির পক্ষে সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।