রাজশাহী নগরীতে বেড়েছে চোরের উপদ্রব

11

Last Updated on

রাজশাহী  শহরে চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে করোনার কারণে , অনেক মানুষের আয়ের কোন পথ নেই এই দুঃসময়ে ৷   শুধু বাসা-বাড়ি নয়, অফিস এবং দোকানপাটেও ঘটছে চুরির ঘটনা। ব্যস্ততম এলাকা থেকেও গায়েব হয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। পুলিশ বলছে, তারা চোরদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে চোরেরা হানা দিয়েছে। নগরীর বোসপাড়া এলাকায় লিয়াকত আলীর বাসার নিচতলা ভাড়া নিয়ে সম্প্রতি এই কার্যালয়টি করা হয়েছে।
চোরেরা ঘরের দুটি জানালার গ্রীল ও দরজার গ্রীল ভেঙ্গে ফেলে, শব্দ শুনে লিয়াকত সাহেব লাইট জ্বা লালে    চোরেরা পালিয়ে যায়়৷ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, চোরেরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে যেতে পারেনি বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তারপরও কিছু খোয়া গেছে কিনা সেটি দেখা হচ্ছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সজাগ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আশপাশের এলাকার মেসগুলোতে বেড়েছে চোরের উপদ্রব।বিশ্ববিদ্যালয় ্দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সুযোগে চোরেরা সেদিকে উপদ্রব শুরু করেছে। গত দুই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর ও স্টেশন বাজারের কয়েকটি মেসে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৪ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার এলাকার এক মেসের ৮টি তালা ভেঙে সমস্ত মালামাল চুরি হয়েছে। এমনকি চোরদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটও। ওই মেসের ভুক্তভোগীদের মধ্যে সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষার্থী সুজন আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে ছুটির ঘোষণার কারণে বাসায় পড়ার জন্য কয়েকটা বই ছাড়া আর কিছুই আনিনি মেস থেকে। গত ১৫ তারিখ আমার ফোনে এক অপরিচিত লোক ফোন করেন। ওই লোকটি জানান যে, সরদহের কোনো এক পরিত্যক্ত জায়গায় আমার সার্টিফিকেট ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখি যে ওইগুলো সব আমারই কাগজপত্র। এরপর আমি তাৎক্ষণিক মেস মালিককে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানাই। ঘটনার একদিন পরে আমার কয়েকজন মেসমেট গিয়ে দেখে কিছু আর অবশিষ্ট নেই ফ্যান, টিভি, লাইট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বইখাতা, পোশাক, লেপ তোষক এমনকি টিউবওয়েলের মাথাটাও খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। ’

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডির মহসীন মেসে বসবাসকারী রাবি দর্শন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তৌহিদুল হক তুহিন বলেন, ‘হঠাৎ ছুটির ঘোষণার কারণে আমি আমার সব কাগজপত্র ট্রাংকে সাবধানে রেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন পরই মেসে চুরির ঘটনার শিকার হই। আমার ট্রাংকসহ লাগেস, লেপ-তোষক, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র চুরি হয়েছে। আমার সার্টিফিকেটগুলোও রাজশাহীর ওই মেস তো দূরের কথা আরেকটি উপজেলা গিয়ে পাই। আমরা ১৬ জন একই মেসে থাকি। আমার রুমমেটের সার্টিফিকেট এখনও পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে এমন একের পর এক চুরি দুঃখজনক। ’

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, করোনা পরিস্থিতিই এমন অবস্থার কারণ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই বেকার হয়ে গেছেন, কর্মহীন হয়ে গেছেন, তাদের আয়ের কোন পথ নেই, যদি কোন ব্যক্তির কর্মসংস্থান না থাকে, সে যদি বেকার হয়ে যায়, তার রুটি রুজির ব্যবস্থা না থাকে, তখন তার নৈতিক স্খলন হতে পারে এবং সে অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়। তবে এসব চোরদের ধরার ব্যাপারে পুলিশ তৎপর আছে। নগরীতে পর্যাপ্ত পুলিশি পাহারাও আছে। এরপরও দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।