যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেক জালিয়াতির ঘটনায় তোলপাড়

৯টি চেকের মাধ্যমে প্রতারকচক্রের পকেটে গেছে আড়াই কোটি টাকা

এবিসি নিউজ>এবিসি নিউজ>
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:45 PM, 07 October 2021
যশোর শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যানহ কর্মকর্তারা

যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ সরকারের ভ্যাট বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার চেক ইস্যু করে। সেই চেকের বিপরীতে প্রতারক চক্রটি ৯টি চেকের মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।য় 

আজ বৃহস্পতিবার(৭ অক্টোবর) বোর্ডের হিসাব শাখা থেকে বিষয়টি ধরা পড়লে তোলপাড় ‍সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি করেছেন।

প্রধান কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানিকে প্রধান করে ৫ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অডিট অফিসার আবদুস সালাম গলমাধ্যমকে জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের বিভিন্ন মালামাল ক্রয় বাবদ সরকারের ভ্যাটের ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করা হয়।

অথচ এখন দেখা যাচ্ছে-যশোরের ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ৭টি ও শাহী লাল স্টোর নামে দুটি প্রতিষ্ঠান ৯টি চেকের মাধ্যমে বোর্ডের ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার চেকের মুড়ি বইয়ের সাথে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় জালিয়াতিটির বিষয়টি ধরা পড়ে। অথচ মুড়ি বাইয়ের চেকের অংকের সাথে ইস্যুকৃত চেকের অংকের মিল নেই।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে বোর্ডের কর্মচারীদের যোগসাজসে ভুয়া চেকের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেই নেয়া হবে আইনী ব্যবস্থা।

শিক্ষাবোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী রেজা বলেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী মালামাল ক্রয় করে থাকি। কিন্তু সোনালী ব্যাংক থেকে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে আমাদের নথিতে কোন বিলভাউচার জমা নেই। ভেনার্স প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ইতিপূর্বে আমাদের কিছু মালামাল দিলেও শাহী লাল স্টোরের সাথে কোন লেনদেন কখনো হয়নি।
সোনালী ব্যাংক শিক্ষাবোর্ড শাখার ব্যবস্থাপক এসএম শাহিদুর রেজা জানান, ভেনার্স প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ঢাকার ফকিরাপুল ঠিকানার চেক ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার ক্লিয়ারিং চেকের মাধ্যমে এসব টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু গণমাধ্যমকে জানান, এই জালিয়াতির সাথে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান সরাসরি জড়িত। আপনারা সিসি ক্যামেরা দেখেন, চেয়ারম্যান রাত পর্যন্ত ভেনার্স প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিকের সাথে সবসময় বসে থাকেন।

এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের চেক প্রিন্টিং করা। সেখানে হাতে লেখার সুযোগ নেই। ধারণা করা হচ্ছে জালিয়াতি করে ভুয়া চেকের মাধ্যমে এসব টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা থানায় জিডি করেছি।

তিনি বলেন, ঘটনাটি নজরে আসার পরই ৫ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । যার প্রধান কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানি। কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। রোববার সব নথি তলব করা হবে। সরকারের টাকা আত্মসাতের সাথে যারাই জড়িত তাদের কেউ ছাড় পাবে না।
এদিকে মোটা অংকের এই চেক জালিয়াতির খবর ফাঁসের পর শিক্ষাবোর্ডে গণমাধ্যম কর্মীদের ভীড় জমে ওঠে। এ সময় উৎসুক জনতাও ভীড় করেন।

আপনার মতামত লিখুন :