যশোর শহরে উচ্ছেদ-দখল খেলা!

উচ্ছেদের পর ফের দখল:শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় হচ্ছে না টেকসই

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:00 PM, 14 November 2022
ফাইল ছবি

যশোর শহরে ফুটপাত ও সড়কে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের পর শুরু হয়েছে বিলবোর্ড, ব্যানার, প্যানা, ফেস্টুন ও পোস্টর অপসারণ অভিযান। সোমবার দড়াটানা থেকে আরবপুর, কোর্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে স্টেডিয়াম ও সার্কিট হাউস এলাকায় অভিযান চালায় পৌর কর্তৃপক্ষ। পুলিশের সহায়তায় আজও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ।

 

এরআগে বৃহস্পতিবার একদিনেই ৩ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদ করা হয়। তবে একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে দখলের ঘটনা ঘটছে। জোর যার মুল্লুক তার অবস্থা বিরাজ করছে। এরফলে নিয়মিত অভিযান চালাতে অর্থ খরচের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সময় ও জনবল। ফেরানো যাচ্ছে না শহরের সৌন্দর্য। দুর্ভোগ পথচারীদের পিছু ছাড়ছে না। সড়ক-ফুটপাত সর্বত্রই অভিন্ন চিত্র।

বৃহস্পতিবার স্টেডিয়াম এলাকা, শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা, বড়বাজার ও নীলরতন ধর সড়কে (ফায়ার স্টেশন সংলগ্ন) দিনভর অভিযান চালায় পৌর কর্তৃপক্ষ। এদিন ছোট-বড় ৩ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) বিএম কামাল আহম্মেদ।
দৈনিক কল্যাণকে তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম আবু নওশাদের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন পৌরসভার লোকজন এবং একদল চৌকষ পুলিশ।
এরআগে গত ১৩ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর ১৩ দিনে প্রশাসনের সহায়তায় পৌর কর্তৃপক্ষ দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করেছিল।

বৃহস্পতিবার দড়াটানায় যেসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হয়েছে, তা গত ১৩ অক্টোবর অভিযানের প্রথমদিনেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল কিন্তু মাস না পেরুতেই সেইসব স্থানে ফের গেড়ে বসেছিল অবৈধ দখলদাররা। যা পুনরায় উচ্ছেদ করতে পৌর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে হলো।
গত ৮ নভেম্বর শহরের রেলস্টেশন রোডে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সংলগ্ন ড্রেনের ওপর থেকে রেডিমেন্ট খাট ও বিভিন্ন ফার্নিচার তৈরি ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠাগুলোকে উচ্ছেদ করে পৌর কর্তৃপক্ষ কিন্তু পরক্ষণেই দখলে নিয়ে দেয় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কতিপয় যুবক। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

টিবি ক্লিনিকপাড়ার বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেন, ফার্নিচার তৈরির কাঠেরগুড়ো ড্রেনে পড়ে। যেকারণে পানি সরে না। সামান্য বৃষ্টিতে গোটা এলাকা জলামগ্ন হয়। মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যায়। পথচারীদের প্রধান সড়ক বেয়ে চলতে হয় কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালীর সাথে এসব দখলদারদের রয়েছে অনৈতিক দেন-দরবারের সম্পর্ক। যেকারণে অবৈধ দখলদারচক্র কারোর তোয়াক্কা করে না।

কালেক্টরেট মার্কেট সংলগ্ন ড্রেন ভাজা-পোড়া থেকে শুরু করে রেডিমেন্ট পোশাক বিক্রেতাদের দখলে রয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা হয় কিন্তু ঘন্টা পার না হতেই ফের দখলে নেয়।

শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ব্রিজের উত্তর পাশে বহালতবিয়তে রয়েছে অনন্ত ১৪টি ফলের দোকান। ১৩ অক্টোবর অভিযানের প্রথমদিন আশপাশের হকার উচ্ছেদ করা হলেও হাত পড়েনি এসব ফলের দোকানে। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক কল্যাণে সংবাদ প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর সড়ক থেকে ভৈরব নদের দোকানগুলোকে সর্বোচ্চ দুই ফুট সরিয়ে নেয়া হয়। এরবাইরে ডাব বিক্রেতা থেকে শুরু করে পান-বিডির দোকান রয়েছে আরও ডজ্জনখানেক। অভিযোগ রয়েছে প্রত্যেক ফল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসে দুই হাজার করে টাকা নেন ক্ষমতাসীন দলের উঠতি এক নেতা। অন্যদিকে ফল ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে ব্যবসা করেন ডাব থেকে শুরু করে পান-বিডির দোকানীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক হকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, শহরের মাইকপট্টির অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সড়কের ওপর পণ্যের পসরা সাজিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। যেকারণে স্কুল শুরু ও ছুটির পর নজিরবিহীন যানজটের সৃষ্টি হয় এই সড়কে।

রামকৃষ্ণ আশ্রম থেকে শুরু করে সরকারি মুরগী ফার্ম পর্যন্ত ড্রেনের দখল নিয়ে ভাংড়ির রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
যশোর শহরের সর্বত্রই দেখা গেছে এই অভিন্ন চিত্র।

বৃহস্পতিবার উচ্ছেদের পর শুক্রবার সকালে দেখা যায় নীলরতন ধর সড়কে ফায়ার স্টেশন সংলগ্ন রোড ও ড্রেন ফের দখল নিয়েছে, যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এই একই চিত্র সারা শহরে।

এ বিষয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) বিএম কামাল আহম্মেদ বলেন, নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। ফের দখলের ঘটনা ঘটলে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।

এদিকে আজ সোমবার (১৪ নভেম্বর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম আবু নওশাদ ও সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ নেতৃত্বে দেন।

আপনার মতামত লিখুন :