যশোর পৌর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে বিএনপি!

19

মোল্লা মশিউর:যশোর বিএনপি সভায় সর্বসম্মতিতে যশোর পৌরসভা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী ৩১ মার্চ যশোর পৌরসভার নির্বাচন। এখানে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনি খান পলাশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক মেয়র বিএনপি দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের  মারুফুল ইসলাম।
দলের একাধিক সূত্র জানায়, আজ বুধবার বিকেলে বিএনপি যশোর জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্থানের নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় অধিকাংশ নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু আশা করা যায় না। অনর্থক এই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রয়োজনীয়তা নেই।
সূত্রমতে, নির্বাচন থেকে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থীকে সরিয়ে নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে বৃহস্পতিবার। এদিন বেলা ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হবে। বিএনপি দলীয় প্রার্থী মারুফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রমতে, কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদসহ আসন্ন সব নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু যশোর পৌরসভা নির্বাচনের তফশিল যেহেতু আগেই হয়ে গেছে, সেই কারণে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত যশোর পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি-না, তা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। এমন অবস্থায় জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা যশোর পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়া না-নেয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে নেয়ার কথা বলেন। সেই প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দলটির নেতারা মত দেন, এখন সরকারের পতন ও ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ নির্বাচন কমিশনের বিদায়ের দাবি নিয়ে আন্দোলনে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
তবে বিএনপি দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যাপারে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তারা ইচ্ছে করলে ভোটে থাকতে পারেন, সরে যেতেও বাধা নেই।

সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
এতে দলীয় মেয়র প্রার্থী মারুফুল ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য সচিব এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, এড. মোহাম্মদ ইসহক, দেলোয়ার হোসেন খোকন, মিজানুর রহমান খান, গোলাম রেজা দুলু, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, হাজি আনিসুর রহমান মুকুল প্রমুখ।
এদিকে মুহুর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।