যশোর পৌর নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশী অভিযান শুরু

12

>>বিতর্কিত প্রার্থী ও তাদের দ্বারা পরিচালিত মাদক কারবারী চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও পেশাদার খুনির তালিকা পুলিশের হাতে
মোল্লা মশিউর:
যশোর পৌর নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করার লক্ষে পুলিশের বিশেষ অভিয়ান শুরু হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার রাতে অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে ডিবি। পুলিশ সূত্র বলছে নির্বাচনে প্রভাববিস্তার করতে পারে এমন চিন্তা ভাবনা থেকে সন্ত্রাসীদের তালিকা ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা নিয়ে দুর্বার অভিযানে চালাচ্ছে পুলিশ।

সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ যশোর পৌরসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবারও কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ মাদক কারবারীর অভিযোগ রয়েছে। পেশাদার খুনি ও ফেনসিডিলসহ ইয়াবা ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এমন ব্যক্তি প্রার্থী হয়েছেন যেমন তাদের সাথে দিনরাত যারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের অধিকাংশই নানাভাবে আলোচিত। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা রয়েছে। আরও খবর>>যশোর শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ায় চাঁদাবাজ আটক


সূত্র বলছেন, এসপি স্যার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পৌর নির্বাচনে কোন রকম বিশৃঙ্খলা বা কেন্দ্র দখলে নেয়ার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। ভোট কেন্দ্রে না আসতে পাড়া মহল্লায় কোন রকম ভয়ভীতি দেখানো হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মাদক কারবারী ভূমিদস্যু চাঁদাবাজ ও পেশাদার কিলারদের তালিকা করে যেমন ধরপাকড় চলছে তেমনি কেউ যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেইজন্য নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে হাতে পাওয়ার পর অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক টিম। ভোটের সপ্তাহখানেক আগে থেকে এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা। আর চলবে ভোট গ্রহণের পর আরো ৩দিন। সবমিলে এই অভিযানের মেয়াদ হবে ১০ দিন, প্রয়োজনে মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, যশোর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শহরে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কোন মূল্যে যশোর পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। এজন্য যা যা করা দরকার তার সব করবে পুলিশ প্রশাসন।

নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে যশোর শহর ছাড়াও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালাবে পুলিশ। কোনভাবেই সন্ত্রাসীদের ভোট কেন্দ্র ও তার আশাপাশে ভীড়তে দেয়া হবে না-এমনি দৃঢ়তার কথা বলছে পুলিশ। সন্ত্রাসীরা যত প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় থাকুক না কেন, কেউ ছাড়বে না পাবে না।

সোমবার রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম শহরতলী বিরামপুর এলাকা থেকে মাসুদ রানা (২৮) নামের একজনকে আটক করেছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রটি বর্তমানে কারাগারে থাকা মাসুদ রানার শ্যালক সন্ত্রাসী মহিদুল ইসলামের বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। মাস তিনেক আগে মহিদুল অস্ত্রটি তার কাছে রাখে। আর রানা সেই অস্ত্রটি মহিদুলের বসতবাড়ির একটি আম গাছের গোড়ায় রেখে দেয়।
এরআগে শহরের ষষ্টিতলাপাড়া থেকে অস্ত্রগুলি ও ইয়াবাসহ একজনকে আটক করে পুলিশ। তবে তার সহযোগীরা আত্মগোপনে রয়েছে। কে কোথায় রয়েছে তার খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমবে বলেন, পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে কেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যারা সন্ত্রাসী তৎপরতার সাথে যুক্ত তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যে কোন মূল্যে যশোর পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে পুলিশ তৎপর থাকবে।