যশোরে হত্যা মামলার আসামি রিপন গ্রেফতার

31

মোল্লা মশিউর:যশোরে বহুল আলোচিত ডিম রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ। তার নেতৃত্বে গত বছরের ১৭ জুলাই যশোর শহরতলীর আরবপুরে আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যারে মামলা রয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের মণিহার এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

আটক রিপন বারান্দী মোল্যাপাড়ার বদর উদ্দিনের ছেলে। তিনি দেশের ২৪ নম্বর শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভাই। ফিঙে লিটন ভারতে থেকে যশোরে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র কেনাবেচার সাথে জড়িত বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
রিপনের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন আলাউদ্দিন হত্যা রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যশোর শহরের আরবপুর কলুপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে আলাউদ্দিন কালু পেশাদার অপরাধী। তিনি শহরের বারান্দীপাড়া এলাকায় আলোচিত রিপনের সেল্টারে ভাড়া বাড়িতে করে বসবাস করতেন। আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে ৬টির ওপরে মামলা। বারান্দীপাড়ায় আস্থানা গেড়ে ডিম রিপনের নেতৃত্বে তার ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নু, বারান্দীপাড়া টাওয়ার মোড়ের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাহারাজ, শামিমের ছেলে শরীফ, একই এলাকার বাপ্পি ও হেদায়েতসহ বেশ কিছু উঠতি বয়সের যুবক ঝুমঝুমপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম শুভ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।
সূত্রমতে, গত বছর রমজান মাসে মণিহার এলাকার একটি মসজিদের সামনে থেকে ফল ব্যবসায়ী রবু’র একটি পালসার এবং আশরাফ নামের এক ব্যক্তির একটি এফেজেড মোটরসাইকেল চুরি করে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রির টাকা আলাউদ্দিনের কাছে ছিল। মাসুদুর রহমান নান্নু মোটরসাইকেল বিক্রির টাকার ভাগ নেয়ার জন্য আলাউদ্দিনকে ফোন করে। কিন্তু তার আগেই নান্নুর ভাগ্নে সিরাজুল ইসলামের ছেলে জিতু টাকা নিয়ে হজম করে ফেলে।

এনিয়েই আলাউদ্দিনকে খুন করে রিপনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী।  বারান্দী মালোপাড়া মদন কুমারের বাড়ির কাছে ডেকে নিয়ে রিপনের নেতৃত্বে আলাউদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের মারফত জানতে পেরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

হত্যার পরদিন নিহতের পিতা শুকুর আলী রিপনসহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
ওই মামলায় ঘটনারদিন রাতেই এজাহারভুক্ত আসাশি শরীফ ও বাপ্পিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। কিন্তু ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল রিপন। বুধবার বিকেলে তাকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।