যশোরে ম্যানসেল বাহিনীর এক সন্ত্রাসীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

41

যশোর থেকে ফিরে মোল্লা মশিউর, খুলনা ব্যুরো:

যশোরে চাঁদাবাজির টাকা ফেরৎ নেওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেল বাহিনীর সদস্যরা। এরপর স্থানীয়রা জাফর নামে ম্যানসেলের সহযোগি এক সন্ত্রাসীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের রেল স্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা, চাঁচড়া ফাঁড়ি, সদস ফাঁড়ি, ডিবি এবং ডিএসবিসহ বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্য সেখানে হাজির হন।

রেল বাজারের ব্যবসায়ীরা ম্যানসেলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পেতে নবাগত পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আহতরা , জামাল উদ্দিন ও সেলিম হোসেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, শহরের ষষ্ঠীতলা সুরেন্দ্র নাথ সড়কের আলমাস হোসেনের ছেলে মেহেবুব রহমান ম্যানসেল। হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বোমাবাজি, অস্ত্র ও মাদক কারবারে ম্যানসেলের রয়েছে বিশাল একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। তবে বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যরা কিশোর বয়সের। ওই বাহিনীতে রয়েছে আশ্রম রোড মহিলা মাদ্রাসার পিছনে আব্দুল হান্নান টুনের ছেলে জাফর, আলীর দুই ছেলে মেহেদী ও আসিফ, নবী হোসেনের ছেলে রুবেল, বাপ্পি, আকাশ একই এলাকার ফয়সালসহ অন্তত দুই ডজন উঠতি বয়সের যুবক। ম্যানসেলের নির্দেশে তার বাহিনীর সদস্যা প্রতিনিয়ত রেল বাজারে চাঁদাবাজি করে থাকে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে ওই সন্ত্রাসীরা জাফরের নেতৃত্বে রেল বাজারের ব্যবসায়ী কাবিলের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে ৬ হাজার ৮শ’ টাকা ও আব্বাস আলীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর ভাই জামাল উদ্দিন ওই সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে বকাবকি করেন। এতে ক্ষীপ্ত হন ম্যানসেল ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এরপর কাবিল ও আব্বাস আলী ঘন্টাখানেক পরেই ম্যানসেলের বাড়িতে গিয়ে নালিশ দেন। এসময় ম্যানসেলের জ্যাকেটের পকেট থেকে সেই সম্পূর্ণ টাকা বের করে ফেরৎ দেন। কিন্তু বকাবকি করার ঘটনায় সন্ত্রাসীরা জামাল উদ্দিনের ওপর ক্ষীপ্ত হয়। তারই জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে জাফরের নেতৃত্বে তার সহযোগি সন্ত্রাসীরা জামাল উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এসময় জামাল উদ্দিনের চিৎকারে ঠেকাতে এগিয়ে আসেন সেলিম হোসেন নামে আরেক যুবক। কিন্তু ওই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাননি তিনিও।

তবে এরপরই রেল বাজারের ব্যবসায়ীরা সোচ্ছার হয়ে জাফরকে গণধোলাই দিয়ে ধরে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ জাফরকে হেফাজতে নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

কিন্তু এরপর থেকেই রেল বাজারের ব্যবসায়ীরা ম্যানসেল বাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে।

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রতিনিয়ত ম্যানসেল বাহিনীর সদস্যরা চাঁদা নিতে আসে। আর চাঁদার টাকা না দিলে হত্যার গুমকি দেয়া হয়।

গত থার্টি পাস্ট নাইটে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করে। আবার অনেক ব্যবসায়ী আগে থেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে গেছে।

উল্লেখ্য বছর তিনেক আগে জাফরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় রেল বাজারের পাশেই ডোম পট্টিতে। সেখানে মন্দির ভাংচুর ও লোকজনদের মারপিট করা হয়। তবে ওই হামলায় অংশ নেয়া জাফরের ভাই জাহিদ কিছুদিন পরে সন্ত্রাসীদের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়।

বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার কারণে কয়েক বছর আগে ম্যানসেলের আরো দুই সহযোগি নজু ও ডলার বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়।

এই ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেছেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় জাফরকে গণধোলাইয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ওসি জানিয়েছেন।