যশোরে বিরোধপূর্ণ জমিতে বেড়া দেয়া নিয়ে ক্ষোভ

যশোর আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে-দাবি ভুক্তভোগীর

এবিসি নিউজ>এবিসি নিউজ>
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:35 PM, 19 September 2021
ফাইল ছবি

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রতিবেশির সাথে বিরোধপূর্ণ জমিতে বেড়া দিয়েছে জাকির হোসেন ও তার শরিকরা। যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের দুড়িয়ালী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে ওই গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রতিবেশি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তার পিতা মৃত আশরাফ হোসেন ১৯৮৯ সালে ওই গ্রামের এক সনাতেন পরিবারের কাছ থেকে ১৫ শতক জমি খরিদ করেন। গত বছর ২০১৯ সালে তিনি আরো একজনের কাছ থেকে ১২ শতক জমি কেনেন। পরবর্তীতে তিন শতক জমি বাড়তি বলে এক প্রতিবেশি অভিযোগ করলে তিনি আলোচনার মাধ্যমে তা নিস্পত্তি করে নেন। ফলে তার মোট জমির পরিমাণ হয় ২৪ শতক। অপরদিকে প্রতিবেশি জাকির হোসেন ও তার শরিকদের কেনা জমি ২৯ শতক। জাকির দাবি করেন তার (আনোয়ার হোসেনের) জমির মধ্যে জমি ঢুকে গেছে। এনিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। পরে এলাকার লোকজন মাপদিয়ে দেখে জাকির হোসেনের দখলি জমির পরিমাণ ৩৫ শতক। তার দলিলে ২৯ শতক জমি থাকলেও তিনি ৩৫ শতক দখল করে নিয়েছেন। কিন্তু তার (আনোয়ার) ২৪ শতক জমির স্থানে আছে মাত্র ১৪ শতক। বাকি ১০ শতকের হিসাব নেই।
আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ১০ শতক জমির মধ্যে ৪ শতক জমির ঝামেলা মিটিয়ে নেয়া হয়েছে আরেক প্রতিবেশির সাথে। কিন্তু বাকি ৬ শতক জমি জাকির হোসেন জবর দখল করে রেখেছে। এই বিষয়ে এলাকার লোকজন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে শালিস হয়। কিন্তু শালিসে কোন সুরাহ হয়নি। ফলে তিনি আদালতের দারস্থ হন। আদালত উভয়পক্ষকে স্থীতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে নির্দেশ দিলেও জাকির হোসেন তা অমান্য করে তার জমির সীমান থেকে বেশ ভেতরে নতুন করে বেড়া দিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় জাকির হোসেনের সাথে। তিনি জানান, তার সীমানা জুড়ে বেড়া দিয়েছেন। বেড়া পুরনো হয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন করে দিয়েছেন। তার জামির পরিমাণ সঠিক আছে। যে ৬ শতক জমি আনোয়ার নিজের বলে দাবি করছেন তার সঠিক কাগজপত্র আছে। এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ঝামেলার সমাধান দিতে না পারায় তিনি আদালতে গিয়েছেন। আদালতের রায়ের অপেক্ষায় তিনি আছেন।

নতুন করে বেড় দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, বেড়া পুরনো হয়ে গিয়েছিল। তার নতুন বাঁশ খুঁটি পোতা হয়েছে। এছাড়া আদালত কোন সমাধান আপাতত দেয়নি। আনোয়ার হোসেন মিথ্যাচার করছেন।

এ বিষয়ে পাশাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান সবুজ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকার লোকজন ওঠাবসা করেছেন। কিন্তু কোন সমাধান না হওয়ায় দুইপক্ষই আদালতে গিয়েছেন। এবিষয়ে কোন মন্তব্য করা সমিচিন হবে না।

 

আপনার মতামত লিখুন :