যশোরে প্রেমের সম্পর্কে একত্রিত হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুল নৈশপ্রহরী শ্রীঘরে

মণিরামপুর প্রতিনিধিমণিরামপুর প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:27 PM, 09 November 2021
প্রেমের সম্পর্কে একত্রিত হয়ে শ্রীঘরে নৈশপ্রহরী

যশোরের মণিরামপুরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। তবে বিয়ের আগেই তারা জড়িয়েছিল দৈহিক সম্পর্কে । অবশেষে গোপনে  শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে মিলিত হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনির পর জেলে যেতে হয়েছে এক নৈশ প্রহরীর।

ধরা খাওয়ার পর ১৬ বছর বয়সী ওই তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে নৈশপ্রহরী আতাউর রহমানের (৩১) বিরুদ্ধে থানায় ঠুকে দিয়েছে মামলা। সোমবার (৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে আতাউরের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন করেন ওই তরুণী।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা রাতে আতাউর এবং ওই তরুণীকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে একসাথে দেখতে পেয়ে আটকে রাখেন স্থানীয়রা। গণপিটুনিও দেয় তারা। অবশেষে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

আতাউর শ্যামনগর গ্রামের আলী মুনসুরের ছেলে। ওই নারীর বাড়ি একই গ্রামে। তিনি অভয়নগরের নওয়াপাড়ার একটি পাটকলের শ্রমিক।

আতাউর ২০১৬ সাল থেকে শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। ধর্ষণ মামলা হওয়ায় এবার তার চাকরির চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

মণিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) যোগেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর বাজারে ডাক্তার দেখিয়ে স্কুল মাঠ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তরুণী। আতাউর তখন স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাদীকে একা দেখতে পেয়ে আতাউর ডাক দেন। তিনি বারান্দায় উঠতেই আতাউর তাকে টেনে অফিস কক্ষে নিয়ে যান। তখন জোর করে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন আতাউর।

যোগেশ মন্ডল নামে এক ব্যক্তি জানান, ঘটনাটি দেখে ফেলেন আশপাশের লোকজন। তখন তারা আতাউরকে ধরে মারপিট করেন। খবর পেয়ে আমরা আতাউর ও বাদীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ওই তরুণীর বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে। আতাউরের সাথে তার পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্র ধরে সোমবার সন্ধ্যা রাতে তারা স্কুলে নির্জন স্থানে তারা মিলিত হন। এদিন সন্ধ্যায় সেখানে নির্বাচনী সভা চলছিলো। সভার লোকজন তাদের বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকতে দেখে সন্দেহ করেন। তখন তারা এসে দু’জনকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ধরে ফেলেন।

স্থানীয়রা বলেন, লোকজন দেখে আতাউর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তাকে গণপিটুনি দিয়ে অফিস কক্ষে ওই নারীর সাথে আটকে রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ওই তরুণীকে জোর করে ধরে এনে ধর্ষণ করার যে বয়ান দিচ্ছে পুলিশ তা সঠিক না। কারণ প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের স্কুলে ঢুকতে দেখেছেন। তারমানে দু’জন স্বেচ্ছায় সেখানে যান। জোরপূর্বক ধরে নেয়ার কোন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি কেউ।

এদিকে আতাউরের বহিষ্কারের দাবিতে মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকালে স্কুল ঘেরাও করে এলাকাবাসী। এ সময় তারা গণস্বাক্ষর দেন।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, আতাউরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেহেলী ফেরদৌস গণমাধ্যমকে জানান, আতাউরের ঘটনা শুনেছি। তার নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক। নিয়োগ চুক্তি বাতিল করে কাগজপত্র আমার অফিসে পাঠাতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়েছি।

 

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :