যশোরে পিবিআই’র প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিবেদন প্রত্যাখান

ধর্ষণ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:03 PM, 27 October 2022
ফাইল ছবি

যশোরে তালাকপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির পক্ষে পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েও কাজ হলো না ।  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক গোলাম কবীর পিবিআইর প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়নাজারী করেছেন। আজ (২৭ অক্টোবর) পিবিআই’র দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেএই আদেশ দেন বিচারক।

 

আসামি ইয়াছিন আরাফাত সুমন শহরের মুজিব সড়ক ষষ্ঠীতলা বাইলেন শাহান ম্যানসনের মালিক রবিউল ইসলামের ছেলে।

যশোর আদালতের একাধিক আইনজীবীর মন্তব্য ধর্ষণ মামলায় আসামীর পক্ষে প্রতিবেদন দেয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পিবিআইর ভুমিকা। এরফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ  এই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, যশোর পৌরসভার একটি সরকারি প্রাইমারী স্কুল শিক্ষিকার বিয়ে হয় ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল। আসামি ইয়াছিন আরাফাত সুমন ও শিক্ষিকার দাম্পত্য জীবনে এক ছেলের জন্ম হয়। ভালই চলছিল তাদের সংসার কিন্তু হঠাৎ যৌতুকের লোভে সুমন শিক্ষিকা স্ত্রীকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ২০২০ সালের ১০ মে ওই শিক্ষিকার পিতা দেড় লাখ টাকা তুলে দেন জামাই সুমনের হাতে। ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল আরও দেড় লাখ টাকার জন্য স্ত্রীকে পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সমুন। পিতার বাড়িতে অবস্থানকালে ওই শিক্ষিকা জানতে পারেন তাকে তাড়িয়ে দেয়ার তিনদিন আগে ১৮ এপ্রিল তালাক দিয়েছে স্বামী। বিষয়টি জানার পর ওই শিক্ষিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় কোতোয়ালি মডেল থানায় ২২ এপ্রিল মামলা করেন সুমনের বিরুদ্ধে। পুলিশ আসামি সুমনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২৮ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে সুমন জামিনে বেরিয়ে আসে। পরে স্ত্রীকে পূন:রায় গ্রহণ করার প্রলোভন দেখিয়ে ১৮ ও ১৯ মে দুই রাত সুমন শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর সাথে রাত যাপন করেন।  এসময় সুমন স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেন। দুদিন রাত যাপনের পর তালাক প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন স্ত্রী কিন্তু সুর পাল্টে ফেলে সুমন। এ অবস্থায় গত ৫ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা করেন প্রতারিত স্ত্রী। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দেন বিচারক।

 

পিবিআই’র এসআই সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু আলামত ও সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেলেও দু’জনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কটি ধর্ষণ নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার ধার্য্যদিনে ওই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে আসামি ইয়াছিন আরাফাত সুমনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন বিচারক।

আপনার মতামত লিখুন :