যশোরে পারভেজ হত্যায় কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা

14

>>হাসপাতালে হত্যা মামলার আসামি কাউন্সিলর প্রার্থী সোহাগকে ঘিরে পুলিশ পাহারা
এবিসি নিউজ:
যশোর শহরের ঘোপ বউবাজারে পারভেজ হোসেন হত্যাকান্ডে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগও রয়েছেন। ঘটনার পর প্রার্থী সোহাগ অসুস্থতা দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে হাসপাতালে তাকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। তবে এখনো আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি পুলিশ। এছাড়া এজাহারে আরো ৩-৪ অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরও খবর>>যশোরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক ফল বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যা

এদিকে মামলার পর বিষয়টি ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে খুন হওয়ার পর হাসপাতালে আসা নিহত পারভেজের স্বজনরা জানিয়েছিলেন সোহাগের নির্বাচনী প্রচারণাকালে তাকে খুন করা হয়েছে। অথচ মামলায় সেই প্রার্থীকেই আসামি করা হয়েছে। যদিও ঘটনার পর বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রার্থী সোহাগের সম্পৃক্ত থাকার বিষয় নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছিল। আরও খবর>>যশোরে কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

নিহতের বাবা তোতা বিশ্বাস বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাত ১২টায় এ মামলা করেন। মামলা নম্বর-১০৩।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-ঘোপ বউবাজার এলাকার জলিল হাওলাদারের ছেলে নূর আলম, জনৈক নজরুল, ডিআইজি রোড এলাকার নান্টু, বদ্দিন ও জুলফি।
অবশ্য পারভেজ হত্যার ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগ তার প্রতিপক্ষ মোকসিমুল বারী অপু জড়িত বলে অভিযোগ করেছিলেন।

পারভেজের স্বজনরাও ঘটনার পর দাবি করেছিলেন পারভেজ শফিকুল ইসলাম সোহাগের প্রচারণা চালাতে গিয়ে খুন হন।
তোতা বিশ্বাসের দায়ের করা এক পৃষ্ঠার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এজাহারনামীয় আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করে না।

এজাহারনামীয় আসামি ও সোহাগের সাথে পারভেজ ঘোরাফেরা করতেন। বেশিকিছুদিন ধরে তাদের সাথে পারভেজের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোহাগের নির্দেশে ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আসামিরা বউবাজার এলাকার তসলিমের দোকানের সামনে পারভেজের গতিরোধ করে। এসময় তারা পারভেজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পারভেজ নিজেকে বাঁচাতে তসলিমের ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে তাকে সেখানে গিয়েও কোপাতে থাকে। তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। হাসপাতালে আসা লোকজনদের কাছ থেকে এসকল তথ্য জেনে এসে তিনি এ মামলা করেন।
নিহতের পারভেজের মা ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, পারভেজ কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগের নির্বাচনী প্রচারণা করছিলেন। হত্যার পর তার মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগ। মঙ্গলবার রাতেই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল শয্যায় বুধবার সকালে তিনি দাবি করেন, বর্তমান কাউন্সিলর মোকসিমুল বারী অপু তাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলেছিলেন। এর দুইদিন পরই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পারভেজকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। ধাওয়া দিয়ে ওকে কুপিয়ে মেরেছে।
অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোকসিমুল বারী অপু। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। আমি তাকে বসে যেতে বলবো কেন? বরং তার পক্ষ থেকে আমার কাছে প্রস্তাব আসছে যে, আপনি যদি ওকে বসে যেতে বলেন তাহলে ও বসে যাবে। আমি প্রতিউত্তরে সেই ব্যক্তিকে বলেছিলাম যে, আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির উঠ পাখি মার্কার মালিক। সোহাগ তো আমার প্রতিপক্ষ না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইনসপেক্টর ইদ্রিসুর রহমান বলেন, ‘আমি আজ (বুধবার) সকালে মামলার তদন্তভার পেয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। সোহাগ কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগ কি-না বলতে পারবো না। কী কারণে কারা হত্যা করেছে তা উদ্ঘাটনে সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’
হাসাপাতালে ভর্তি কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘আমার পিতা মৃত জামাল হক। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনছি, আমাকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আমাকে পুলিশ পাহারায় রেখেছে।’