যশোরে পণ্যের দাম চড়াঃমধ্যবিত্তের ঘরে হতাশা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে-দাবি জেলা আ’লীগের সভাপতি মিলসের

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:55 PM, 03 June 2022

বাজেট ঘিরে প্রায় সব পণ্য চড়াদামে বেচাবিক্রি শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ভোজ্য তেল থেকে পেঁয়াজ, আটা থেকে ময়দা বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। নতুন চাল বাজারে আসার পরও কাটেনি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। চালের দাম কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়েছে। দাম বেড়েছে সিগারেটেও। এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ভোক্তা মহলে। তাদের অভিযোগ নেপথ্যে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে।

 

এদিকে রাজনীতি সচেতন মহল বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তাদের সন্দেহ অধিক মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায় ফেলার লক্ষ্য থাকতে পারে। তবে যার যে লক্ষ্যই থাকুক না কেন, এরফলে নি¤œ ও মধ্যবিত্তের ঘরে যে কষ্ট বেড়ে গেছে তা নিয়ে কারোর কোনো সন্দেহ নেই।

 

 

যশোরের বাজার অনুসন্ধানে দেখে গেছে, প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম হুট-হাট করে বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বোরোর ভরা মৌসুমেও চালের দাম কমেনি। উল্টো নাম ও মানভেদে প্রতিকেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। মঙ্গলবার বড়বাজারে কথিত বাংলামতির ২৫ কেজির বস্তা ১৮শ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ হিসেবে পাইকারী কেনা দর পড়ছে প্রতিকেজি ৭২ টাকা। খুচরা দোকানে যা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ২৫ কেজি ওজনের জিরে মিনিকেটের বস্তা পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ১৭শ’ টাকা। যার কেজি কেনা পড়ছে ৬৮ টাকা। খুচরা বেচাবিক্রিতে ঠেকেছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকা। এরবাইরে ব্রি-২৮ সহ মোটা চালের কেজি কিনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়।

সিটি কলেজ পাড়ার বাসিন্দা লুৎফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর বুঝি সংসারের ঘানি টানতে পারবো না। তিনি বলেন, ৫৫ টাকার নিচেই চাল কিনলে ভাত খাওয়া যাবে না। এমনিতেই পুরনো চালে কালো পোকা কিলবিল করছে। তার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চালের বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারী নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, থাকলে ব্যবসায়ীরা এভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারতো না।

শহরতলীর ছোট শেখহাটি গ্রামের রিকশা চালক মহিউদ্দিন বলেন, চিনির দাম ৯০ টাকায় উঠেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা দানার মসুরীর কেজিতে বেড়ে গেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। জিরা-মশলার গায়ে হাত দেয়ার জো নেই। তিনি বলেন, গরুর মাংসের কেজি কিনতে হচ্ছে ৭শ’ টাকায়। দেশি ও সোনালী মুরগীর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। ৩২ টাকার ডিমের হালি ঠেকেছে ৩৬ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে রসুনের দাম। তবে সবজির দাম এখনো ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে আছে-মন্তব্য করে তিনি বলেন, গোনা টাকায় বাজার করা যাচ্ছে না।

বারীনগর বাজারের মুদি দোকানী হিমাংসু দাস বলেন, সব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। এরফলে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা বাকিতে পণ্য নিয়ে সময় মতো টাকা দিতে পারছেন না। দিনকে দিন বাকির বোঝা বেড়ে যাচ্ছে। দোকানে সব রকমের পণ্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ৪৫ হাজার টাকায় একটি বিক্রি করে দোকানের মাল কিনতে এসেছি।
চালের চড়া দাম প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চান বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ চাল কিনছেন। খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে গুজবের প্রভাব পড়েছে বাজারে। গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দেন এই পাইকারী চাল ব্যবসায়ী।

টিবি ক্লিনিক মোড়ে মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক কমল কর্মকার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, নেশার মধ্যে সিগারেট খেতাম কিন্তু তার দাও প্রতিপিসে ১ থেকে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বেনসন-গোললিফ, রয়েল, ডার্বি থেকে শুরু করে এমন কোনো সিগারেট নেই, যার দাম বাড়েনি। তিনি যশোরের ডিস্ট্রিবিউটারকে দোষারুপ করেন। খুচরা সিগারেট বিক্রেতা মুছা জানান, অর্ডার দিয়ে মাল পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যেকারণে একটু বেশি দামে বিক্রি করছি।

বাজার দর প্রসঙ্গে যশোর জেলা আ’লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন বলেন, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাজারে। ভারত গম দিচ্ছে না। এসব কারণে অনেকে ভাবছেন খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। গুজবও ছড়ানো হচ্ছে। যেকারণে বাজার দর একটু চড়া। তবে এ পরিস্থিতি থাকবে না। দ্রুতই অবসান ঘটবে-মন্তব্য এই রাজনীতিবিদের।

যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, বাজার দর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলছে। তিনিও মনে করেন, বাজার পরিস্থিতি দ্রুতই স্থিতিশীল হবে।

আপনার মতামত লিখুন :