যশোরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম অস্বাভাবিক 

ভুক্তভোগী মহলের ক্ষোভ প্রকাশ

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:30 PM, 12 December 2022
ফাইল ছবি

সরকারি হাসপাতালেও মিলছে না চাহিদা মতো ওষুধ। ফলে গরীব রোগীরা চিকিৎসা নিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন-নিত্য প্রয়োজনীয় ঔষধের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আগে প্রতিটি প্যারাসিটামল (৫০০ এমজি) এর দাম ছিল ৮০ পয়সা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১ টাকা ২০ পয়সা। ৬ মাসের ব্যবধানে ৪০ পয়সা দাম বেড়েছে প্রতিটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির ফলে রোগীদের কিনতে বেগ পেতে হচ্ছে। ঠান্ডা কাশির সিরাপ আগে ছিল প্রতি বোতল ২৫ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা। একেক কোম্পানির ওষুধ একেক দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ওডাসেফ (৫০ এমএল) আগে ছিল ১শ ৯৫ টাকা ছিল। এখন এর মূল্য বেড়ে হয়েছে ২শ ১০ টাকা। এভাবে এ ফেক্সো (১২০ এমএল) প্রতিটি ট্যাবলেট ৮ টাকা থেকে ৯ টাকা, এ-ফেক্সোসিরাপ ৪৮ টাকা থেকে ৫৫ টাকা, জোডিফেন সিরাপ ৪৫ টাকা হতে ৫০ টাকা, আটরোবিন (৫) ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছেন।
ওষুধের এমন দামে রোগীরা হতাশার মধ্যে পড়েছে। তারা ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলেই বাড়তি মূল্য শুনে হতবাক হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েও পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। কারণ সরকারি হাসপাতালে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।যশোরের পুলেরহাটের মশিয়ার রহমান যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক তারা প্রেসক্রিপশনে ৩টি আইটেমেরর ওষুধ লিখেছেন। হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে দেয়া হয়েছে ১টি ওষুধ। ২টি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন মিনু বেগম (৬৫) বর্হিবিভাগের ৪ ও ৬ নং কক্ষ থেকে তিনি চিকিৎসা নেন। ডা. মাধবী রানী তাকে গ্যাস নাশক ওমেপ (২০ এমসি)সহ ৪ প্রকার ওষুধ লেখেন। এর ভেতর ৬টি গ্যাসের ক্যাপসুল ওমেপ দিয়ে তাকে বিদায় করা হয়। হাসপাতালে আগে গ্যাসের ক্যাপসুল দেয়া হতো এক পাতায় ১০টি করে। এখন তা থেকে ৪টি কমিয়ে ৬টি করে দেয়া হচ্ছে। অন্য প্রকার ওষুধ তাকে বাড়তি মূল্য দিয়ে কিনতে হয়েছে।
মিনু বেগম যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের নূর ইসলামের স্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বাস ভাড়া, রিকশা ভাড়া বেড়ে গেছে। বাড়ি থেকে হাসপাতালে আসতে দু’জনের ২শ টাকা খরচ হয়েছে। বাড়ি যেতে আরো ২শ টাকা খরচ হবে। তিনি সরকারি ওষুধ পেয়েছেন ৬টি। ওষুধের মূল্য বেড়ে গেছে। এখন বাড়তি টাকা দিয়ে ওষুধ কেনা তার জন্যে কষ্টকর।বিষয়টি নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, বাজারে ওষুধের মূল্য আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে তার কিছু করার নেই। তবে হাসপাতালে সরকারিভাবে যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে রোগীরা পাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন :