যশোরের ১৬ হোটেল রিক্যুইজিশন: খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

117

ভারতে ঘুরে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। কিন্তু বেনাপোলের হোটেলে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এবার যশোর শহরের ১৬টি হোটেল রিক্যুইজিশন করা হয়েছে। এখানেও স্থান সংকুলন না হলে পার্শ্ববর্তী চার জেলার হোটেলগুলোও রিক্যুইজিশন করার সিদ্ধান্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে ভারত ফেরত অনেকে বলেছেন তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে আটকে পড়ার কারণে হিসাবের বাইরে বাড়তি খরচ হয়েছে। এখন পকেট শূন্য। অনেকের বাড়ি থেকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার টাকা যোগান দেয়ার সামর্থ্য নেই। তারা বুঝতে পারছেন না এত টাকা তারা কোথায় পাবেন। এজন্য সরকারি সহায়তার দাবি করেছেন।

জানা যায়, যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আজ শুক্রবার(৩০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় যশোরের হোটেল মালিকদের প্রতিনিধিরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে জানান, ভারত থেকে যে সংখ্যক পাসপোর্ট যাত্রী ফেরত আসার কথা আমরা চিন্তা করছিলাম তার থেকে অনেক বেশি আসছেন। বেনাপোলের হোটেলগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ এতিমখানা ও মাদ্রাসার ভবনও পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে ২০২ জনকে রাখা হয়েছে। যেকারণে ভারত থেকে ফেরত আসাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে যশোর শহরের হোটেলগুলো রিক্রুইজিশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হোটেলের মালিকরা স্বল্প মূল্যে পাসপোর্ট যাত্রীদের রাখতে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া এসব হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ফেরত আসার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যেকারণে যশোর শহরের হোটেলগুলোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলার হোটেলগুলোতেও তাদের রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফেরত আসাদের দেখভালের বিষয়টি দেখছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান। তিনিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত বলে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে এনডিসি কেএম মামুনুর রশিদ বিকেল ৫টায় জানান, এখন পর্যন্ত ১৬টি হোটেল রিক্রুইজিশন করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর আইসিটি পার্কের থ্রি-স্টার মানের হোটেল, জাবের ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিটি প্লাজা, হোটেল ম্যাগপাই, হোটেল আর এস, হোটেল মনিহার, হোটেল ম্যাক্স, হোটেল সোনালী, সিটি হোটেল, হোটেল শাহরিয়ার, হোটেল বলাকা, হোটেল নয়ন, হোটেল নিউ ওয়ে, হোটেল প্রিন্স, হোটেল সিটি, যশোর হোটেল রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে যশোরের নয়ন হোটেলে ৩৭জনকে, হাসান ইন্টারন্যাশনালে ৪৪জনকে, হোটেল ম্যাগপাই ১৭জন, আরএস হোটেলে ৭জন, হোটেল ম্যাক্সে ১১জন, শেখ হাসিনা আইটি পার্ক হোটেল ৬জনকে রাখা হয়েছে।
এদিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেখ সালাউদ্দিন শিকদার জানান, যেসব স্থানে ভারত ফেরত যাত্রীদের রাখা হয়েছে সেসব স্থানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। ১৪দিন অবস্থানের পর করোনা নেগেটিভ সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব যাত্রীদের নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি হোটেলে থাকা খাওয়া ও চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করুক। তাহলে তাঁরা স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।