যশোরের মণিরামপুরে কুলাঙার পুত্রের শাবলের আঘাতে পিতার মৃত্যু

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:33 PM, 22 March 2019

মণিরামপুর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছেলের হাতে থাকা শাবলের আঘাতে পিতা তাজুল ইসলাম পাটোয়ারি (৬৫) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাটি শুক্রবার জুম্মা নামাজের পর উপজেলার গালদা গ্রামে ঘটেছে। নিহত তাজুল ইসলাম উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের গালদা গ্রামের মৃত হাসান আলী পাটোয়ারীর ছেলে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন (৩৫) ঘটনার পর পালিয়েছে।
খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী আনোয়ারভ বেগম, ছোটভাই মাজু মিয়া, বড় পুত্রবধু মুন্নি খাতুন, ছোট পুত্রবধু রেহেনা খাতুনকে থানায় নিয়ে আসেন।
স্থানীয় ইউপি মেম্বর ইকরামুল হোসেন জানান, নিহতের দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং হুমায়ুন কবির মালোশিয়ায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি তারা বাড়িতে আসেন। তাদের পাঠানো টাকা নিয়ে পিতার সাথে বিবাদ চলছিলো। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।
নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ এলাকাবাসি জানায়, তাজুল ইসলামের দুই ছেলে মালয়েশিয়া থেকে পিতার কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পাঠায়। সম্প্রতি দুই ছেলে বাড়িতে এসে পিতার কাছে ওই টাকার হিসাব চায়। কিন্তু পিতা সেই টাকার হিসাব দিতে ব্যর্থ হন। এনিয়ে পিতার সাথে দুই ছেলের ভূল বোঝাবুঝি হয়। ওই টাকার হিসাব নিয়ে আনোয়ারের সাথে পিতার প্রায়ই ঝগড়া চলে আসছিল।
নিহতের ছোট ভাই প্রত্যক্ষদর্শী মাজু মিয়া জানান, শুক্রবার পিতা এবং ছেলে গ্রামের মসজিদ থেকে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে বাড়িতে আসে। দুপুর আড়াইটার দিকে ঘরের মধ্যে ওই টাকা নিয়ে পিতা ছেলের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছেলে আনোয়ার হোসেন লোহার শাবল দিয়ে ঘাড়ে এবং পিঠে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই পিতা তাজুল ইসলাম নিহত হন।
থানার এসআই খান আব্দুর রহমান জানান, নিহত তাজুল ইসলামের বড় ভাই নাজমুল ইসলাম পটোয়ারি যশোর শহরে জমি ক্রয়ের তোড়জোড় করছিলেন। এতে ছেলে আনোয়ারের সন্দেহ হয় তাদের পাঠানো টাকা দিয়েই ওই জমি ক্রয় করা হচ্ছে। এনিয়ে নিহত তাজুল ইসলামের সাথে আনোয়ারের কথাকাটির এক পর্যায়ে ঘরে থাকা শাবল দিয়ে পিতাকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই পিতা নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন ।
খবর পেয়ে ওসি (সার্বিক) সহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সালাহ উদ্দিন নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছোটভাই মাজু মিয়া, বড় পুত্রবধু মুন্নি খাতুন, ছোট পুত্রবধু রেহেনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি সহিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :