যশোরের ফারহানার আচারের ‍সুনাম দেশজুড়ে

ইচক দুয়েন্দেইচক দুয়েন্দে
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:29 PM, 11 September 2021

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত

ছাদবাগান-মাছের বায়োফ্লকে সফল

 

অভিনব সব রেসিপি সৃষ্টির এক জগৎ যেন ফারহানার ‘হেঁশেল-ঘর’। বাড়ির রান্নাটি হয় শুধু সেখানটায়; এমনটি নয়। বাজারজাত করার মতন নানান সব মেন্যুও তৈরি হয় তার রান্না ঘরে। যেগুলোর হয় হোম ডেলিভারিও।

আর এসবের মধ্যে আছে রকমারি আচার। রসুন, চুঁই-ঝাঁল, তেঁতুল, কাঁচা-মরিচ ও আমড়ারসহ আরো অনেক আচার। এছাড়াও এই নারী উদ্যোক্তা মাংশেরও আচার তৈরি করেন। যেটি খাবারের দুনিয়ায় বলা যায় একরকম অভিনব। আর তার তৈরি এসব আচার যশোরসহ দেশ জুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে। হাতের যাদু থাকলে আচারের মতন একটি ‘আইটেম’ও নিয়েও যে সফল হওয়া যার তার দৃষ্টান্ত ফারহানা ইয়াসমিন।

জানা গেছে, ছাদ বাগানও করেন  নারী উদ্যোক্তা ফারহানা। বাড়িতে ড্রামের মধ্যে চাষ করেন মাছও। এগুলোতেও তিনি সফল হয়েছেন। তবে এর মধ্যে   ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আচার তৈরি ও সরবরাহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিত হয়ে উঠেছেন । দেশ জোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছে তাকে। মানুষের মুখে মুখে তার আচারের স্বাদ ঘুরে ফিরছে। ফারহানার আচার কিনে  ক্রেতারা সুনামও করছেন । ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০  টাকা  দামে তার  এসব আচার বিক্রি হয়।

ফারহানা বলেন, আচার বানানোর ক্ষেত্রে গুনগত মানের উপর জোর দেন বেশি। এতে মুনাফা কম হলেও এতে তার মধ্যে তৃপ্তি কাজ করে। তিনি মনে করেন, ব্যবসাও এক ধরনের সেবা। আর তাই এক্ষেত্রে সততাকে প্রাধান্য দেন সবচেয়ে  বেশি।  আচার তৈরির জন্য মানসম্পন্ন সরিষার তেল ও মশালার ব্যবহার করেন। সংরক্ষরনও করেন স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায়। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও রাখেন কড়া নজর।

জানা যায়, কেজি প্রতি রসুনের আচার ৬০০ টাকা, মরিচের ৫০০ টাকা, চুঁইঝালের  ১৬০০ টাকা, গরুর মাংসের ১৬০০ টাকা। এছাড়া আমড়ার আচার ৬০০ টাকা, আমলকির  ৯০০ টাকা, খাসির মাংশের আচার ২০০০ হাজার টাকা, চিংড়ির ২০০০ টাকা ও বেগুনের ৬০০ টাকা।

ফারাহানার  দাবি, গুনগত মান এবং স্বাদের জন্য তার তৈরি আচারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটিকে আরো বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সহযোগীতা দরকার। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এটিকে তিনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন। যেটি অনেক মানুষকে এই কাজের সাথে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।  তিনি জানান, যশোরের ভেতর হোম ডেলিভারি ছাড়াও অর্ডার করলে দেশের যেকোন প্রান্তে কুরিয়ারের মাধ্যমে আচার পৌঁছে দেন।

যশোরে বড় হয়েছেন ফারহানা ইয়াসমিন। জাতীয় বিশ্ব-বিদ্যালয়ের অধীনে যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে বিএ পাস করছেনে। আলাপচারতিায় জানান, হঠাৎ করে বিয়ে হয়ে গেলেও পড়াশোনা ঠিকই চালিয়ে যান।  চাকরিরও চেষ্টা করেন। কিন্তু চাকরির জন্য ছোটাছুটি ভালো লাগেনি। আর তাই নিজে কিছু করবেন, সেই ভাবনা থেকেই ছাদ কৃষি শুরু করেন।

২০১২ সালে শুরু করেন  ছাদের এই বাগান।  আড়াই লাখ টাকা নিয়ে ছাদ বাগান শুরু করেন। যশোরের  কোন নারী  হিসেবে তিনিই প্রথম এটি শুরু করেন। আর তার ছাদ বাগানের নাম দেন ফারহানা  ফ্রুটস  এন্ড ফ্লাওয়ার গার্ডেন। এছাড়াও গড়ে তোলেন ফারহানা বায়োফ্লক মৎস খামার। সেখানে ড্রামের মধ্যে চাষ করেন দেশি মাগুর, জিয়লসহ অন্যান্য মাছ।

ফারহানা জানান, কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন  বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক ২০১৮। প্রশিক্ষন নিয়েছেন যশোর, ঢাকা, গাজীপুর সহ দেশের অনেক জেলায়। তিনি মনে করেন, মেয়েরা ঘরের কাজের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে অন্য অ‌নেক কাজে যুক্ত হতে পারে। যেটি তাদেরকে পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ করে দেবে। তার মতে, যদি চাকরির পেছনে না ছুটে তারা উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে, তাহলে পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতী‌তেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :