যবিপ্রবির চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি:বাড়ি বসেই বেতন পান রোকেয়া

31

এবিসি নিউজ:যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পান রোকেয়া খাতুন। তবে তাকে কখনোই কর্মস্থলে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। ‘প্রায় তিন বছর ধরে তাকে কাজ না দিয়ে প্রতি মাসে বাড়িতে বেতন পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।’ কাজ না করে বাড়ি বসে বেতন নিতে রাজি নন তিনি। তার দাবি, চাকরি স্থায়ী ও কর্মস্থলে যোগ দানের ব্যবস্থা করা হোক। এই দাবিতে শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রোকেয়া খাতুন। তিনি বলছেন, দীর্ঘদিন তিনি কর্মস্থলে ফিরতে হতে না পেরে মানসিকভাবে বেশ কষ্টে আছেন। রোকেয়া খাতুন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল খানের মেয়ে।
রোকেয়া খাতুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি মাস্টার রোলে অফিস সহায়ক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানকারী। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত আমি দৈনিক ভিত্তিতে বেতন পাচ্ছি। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমার কোন কাজ নেই, কর্মস্থল নেই। আমি ২০১৮ সালে চাকরি স্থায়ী করার জন্য একটি আবেদন করি। তবে আমার চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। রোকেয়া খাতুন বলেন, ২০১৭ সালে যবিপ্রবিতে যোগদান করে ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন স্যার আমাকে কাজের লোক হিসেবে তার ঢাকার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে স্যারের স্ত্রী আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০১৮ সালের জুলাই মাসের দিকে আমাকে যশোরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যশোরে এসে আমি মাস খানেকের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিউটি করি। কিন্তু পরে আমাকে ইকবাল কবির জাহিদ স্যার ও কামরুল হাসান স্যার বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আমাকে বলা হয়, তোমার কোন কাজ করা লাগবেনা। বাড়িতে বসে তুমি টাকা পেয়ে যাবে। সেই থেকে আমি বাড়িতে বসে বসে প্রতি মাসে টাকা পাচ্ছি। আরিফুজ্জামান সোহাগ (কর্মচারী) আমার বাড়িতে গিয়ে টাকা দিয়ে আসেন। সর্বশেষ ঈদ বোনাসসহ এপ্রিল মাসের বেতন পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, কিন্তু আমি আমার কর্মস্থল হারিয়ে এক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি। আমি আমার কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাই। আমি আমার কাজ চাই। সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া খাতুনের মা সকিনা বেগম ও মেয়ে ফারিয়া সুলতানা অ্যানি উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল মজিদ বলেন, করোনাকালে প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কিছু কর্মচারীকে মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে রোকেয়া খাতুন নামে কাউকে বাড়িতে বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে কিনা, আমার জানা নেই।