মোদি বিরোধীরা মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে-দাবি পুলিশের

61

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। মুসলিম ও মুসলমানদের পবিত্র জায়গা হচ্ছে মসজিদ। পুলিশ মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে ভেতর প্রবেশ করেনি। যদি এটা মসজিদ না হতো তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। আজকে যে পরিমাণ ইটপাটকেল পুলিশের ওপর নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা কয়েক ট্রাক হবে। মসজিদের ভেতরে এতো ইট কিভাবে আসলো সেটা তদন্ত করে দেখা হবে।’

শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকেলে সংঘর্ষ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। আরও খবর>>হাটহাজারী থানায় হেফাজতের হামলা:সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

সংঘর্ষের সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ আইনানুগভাবে তাদেরকে প্রতিরোধ করে যাতে যান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একপর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ছুঁড়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ চলমান আছে। এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। তবে বলা যায় থেমে থেমে কিছুটা সংঘর্ষ চলছে।’ তবে সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা জানাননি তিনি।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে এসেছেন এটি আমাদের জন্য মর্যাদার। সেই মর্যাদাকে নষ্ট করতে তারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সত্যিকার অর্থেই তারা রাষ্ট্রের মযার্দা চায় কি-না, সে বিষয়ে আমার মনে সন্দেহ আছে। বাংলাদেশের মযার্দা তারা চায় না। বাংলাদেশ একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হতে চলছে, এটাও তারা চায় না। তারা চায় তালেবান ধরনের একটি রাষ্ট্র।’

পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন বায়তুল মোকাররমে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারা নানা ধরনের ব্যাঙ্গাত্মক আচরণ করা হয়। এখান থেকে জুতা-স্যান্ডেল দেখানো হয়, কালো পতাকা, ঝাড়ু দেখানো হয়। যেহেতু আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথি। সুতরাং আজকে যেন কোনো বিব্রতকর পরিস্থিত সৃষ্টি না হয় সে কারণে আমাদের নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ভেতরে যখন মুসল্লিরা নামাজ পড়ছিল, তখন কিছু মুসল্লি মিছিল শুরু করে। তারা জুতা-স্যান্ডেল দেখাচ্ছিল। এতে অন্য মুসল্লিরা বাধা দেয়। এতে দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একটা পর্যায়ে যারা জুতা স্যান্ডেল দেখাচ্ছিল, তারা মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেয় এবং ভেতর থেকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। অন্য মুসল্লিরা ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়। অনেকে আহত হয়ে চলে যায়। এমনকি পুলিশের ওপর তারা চড়াও হয়।’

পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধ করতে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল, তারা এটা কিভাবে করল এমন প্রশ্নের জবাবে মতিঝিল জোনের ডিসি বলেন, ‘একদল মুসল্লি মসজিদের ভেতর থেকে স্লোগান দিচ্ছিল, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জুতা, ঝাড়ু দেখাচ্ছিল। তাদের এমন কর্মকান্ডকে বিরোধিতা করছিল আরেকদল মুসল্লি। তারপর থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। যারা জুতা দেখিয়েছে তারা মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেয়। আর যারা তাদের এগুলোর বিরোধিতা করছিল, তারা তাদের হাতে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার বিভিন্ন যায়গায় অবস্থান নিয়েছে। আমরা বলেছিলাম আপনারা যারা মসিজেদের ভেতরে আছেন তারা বের হয়ে যান। তখন অনেকে আমাদের কথা শুনেছেন। আর যারা অতিউৎসাহী তারা এখনও অবস্থান করছেন।’

সূত্র:জাগোনিউজ