মোংলা পৌরসভা নির্বাচনে সকালেই ভোট বর্জনের ঘোষণা ৩৪ প্রার্থীর

25

>>কেন্দ্র দখল মারপিট ও কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়ার অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি:মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে বিএনপি মনোনীত ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং প্রতিদ্বন্দি¦ ৩২ কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এজেন্টদের পুলিং বুথ থেকে মারপিট করে বের করে দেয়া ও ভোটারদের কেন্দ্রে না আসতে দেয়ার অভিযোগ তুলে সকাল সাড়ে ১০ টায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থী জুলফিকার আলী, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মোকছেদুর রহমান গামা, ২৩ জন কাউন্সিলর ও ৯ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
ভোট বর্জন করে বর্তমান মেয়র ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী জুলফিকার আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সকালে ভোট শুরু হলে ১২টি কেন্দ্র থেকেই মারপিট করে আমার ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরদের এজন্টদের বের করে দিয়ে সব কেন্দ্র দখল করে নেয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা থাকলেও কেন্দ্রগুলোতে আমি কোন ম্যাজিস্ট্রেট খুঁজে পাইনি। রাস্তায় বেরিকেট দিয়ে বিএনপির ভোটারদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। নির্বাচনের আগের রাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লাঞ্ছিত করা হয় মা-বোনদের। নির্বাচনের রিটাংনিং কর্মকর্তাসহ প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি। ভোটের নুনতম কোন পরিবেশ না থাকায় আমি বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ ২ জন মেয়র প্রার্থী ২৩ জন কাউন্সিলর ও ৯ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জন করেছি। সংবাদ সম্মেলনে এসময় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়া অধিকাংশ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান ভোট বর্জন করা বিএনপি মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব কেন্দ্রেই সুষ্ঠ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা ভোট বর্জনের নাটক করেছে।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচনের সহকারী রিটাংনিং অভিসার ও মোংলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মোংলা পোর্ট পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রের জন্য ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২‘শ ২০ জন পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনাসার ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ১২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য ১২ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন।