মোংলা থানায় ধর্ষণের মামলা করে হুমকিরমুখে ঘরছাড়া কিশোরী

13

 >>আসামিরা প্রকাশ্যে থেকে দিচ্ছে হুমকি,পুলিশ বলছে পলাতক!
মোংলা প্রতিনিধি:মোংলায় খ্রিস্টান ধর্ম থেকে মুসলিম হবে এবং বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে দিনের পর দিন মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসছিল এক যুবক। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে বিয়ের দাবি তোলে মেয়েটি কিন্তু বিয়ে তো দুরের কথা, মেয়েটির সাথে জীবনে কখনো দেখা হয়নি বলে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে যুবকটি। এমনকি মেয়েটিকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ওই যুবক ও তার পরিবারসহ স্থানীয় কিছু চিহ্ণিত সন্ত্রাসী। এ ব্যাপারে কিশোরী থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। কিন্তু সেই মামলায় পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না। অদৃশ্য খুঁটির জোরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে আসামিরা। একই সাথে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রতারিত কিশোরী।

জানা গেছে, মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের উত্তর হলদিবুনিয়া গ্রামের খ্রিস্টান সম্প্রদয়ের ডঃ জুলিয়ান বৈরাগীর বাড়ির পাশেই শহিদুল হাওলাদারের বাড়ি। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাধে পুর্ব থেকেই কিশোরী (১৭)’র সাথে অভিযুক্ত সুবির বৈরাগীর পরিচয়। সুবিরের বাবা জুলিয়েন বৈরাগী অসুস্থ হওয়ায় প্রায়ই কিশোরী তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। সুবির বৈরাগী পরিবারের মুসলিম ধর্ম ভাল লাগায় প্রায়ই তার মা সপ্না ও বড় ভাই সোহাগ বৈরাগী তাদের বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন কিশোরীকে। এক পর্যায় সুবিরের সাথে কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সুবির বৈরাগী খ্রীস্টান ধর্মের হওয়ায় মুসলিম হয়ে তাকে বিয়ে করবে বলে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসছিল অভিযুক্ত সুবির। এছাড়াও কিশোরীর সাথে ধর্ষণের দৃশ্য গোপানে মোবাইল ফোনে ভিডিওি ধারণ করা হয়েছে এমনও ভয় দেখাতো সুবির-এই অভিযোগ কিশোরীর। এঘটনা সুবিরের বড় ভাই সোহাগ ও তার মা সপ্না বৈরাগীর কাছে জানালে তারা দুজনকে বিয়ে দিবে-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেন মেয়েটিকে।

কিশোরীর অভিযোগ এ অবস্থায় গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে জরুরী কাজের কথা বলে সুবির বৈরাগী তাকে বাসায় ডেকে আনে। ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে পুনরায় তাকে জোর পুর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে কিছু না বলার জন্য ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখায় সুবির।

এ ঘটনা পুনরায় সুবিরের বড় ভাই সোহাগ ও মা সপ্না বৈরাগীর কাছে জানালে এবং বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তারা কিশোরীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়-মামলার এজাহারে এই অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা ওই কিশোরী।

এদিকে ওই রাতেই ইউপি সদস্য কৌশীক মন্ডল (কানু) ও স্থানীয় লোকজন এসে কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেন।
পরে ওই কিশোরী মোংলা থানায় অভিযোগ করলে জড়িত অপরাধীসহ চিহ্ণিত মাদক কারবারী ও দুস্কৃতিকারী রাজীব বৈরাগীর সহায়তায় মিজান মোল্লা, জিম হালদার, জেবিয়ার বৈরাগী, অনুজ হালদার, দিলিপ, সুমন, শুভ, পিয়াস, মিলন, সুজন ও স্থানীয় কিছু প্রভাশালী ব্যক্তি ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে একদিকে মামলা না নেয়ার জন্য পুলিশকে থামিয়ে রাখে, আরেকদিকে কিশোরী নষ্ট অপবাদ দিয়ে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে ১২ সেপ্টম্বর ওই কিশোরী থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। থানায় ধর্ষন মামলার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্ত গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এছাড়া আসামী সোহাগ বৈরাগী ও মা সপ্না বৈরাগীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় পুলিশ তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেয়ারও পায়তারা করছে।
পাশাপাশী মামলা তুলে না নিলে আসামী ও তাদের সহযোগীরা এসিড মেলে ঝলছে দেয়ারও প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলেও কিশোরী অভিযোগ করেন।
এছাড়া মামলার ২নং আসামী সোগাহ বৈরাগী খুলনার একটি হাসপাতালে চাকরী করার সুবাধে কিশোরীকে ধর্ষনের আলামত ও ডাক্তারী রিপোর্টও পাল্টে দেয়া ও মামলা মিটিয়ে নেয়ার ভয় দেখাচ্ছে আসামীদের সহযোগীরা।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় এ কর্মকর্তা।