মোংলায় ৮ দিনের বিশেষ লকডাউন শুরু

25

>>৩০ মে করোনায় আরও এক ব্যাবসায়ীর মৃত্যু
মোংলা প্রতিনিধি:করোনা আক্রান্তের দিক দিয়ে ক্রমেই বিপদজ্জনক হয়ে উঠছে দেশের সামুদ্রিক বন্দর মোংলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন করোনা রোগী। মোংলায় গত এক সপ্তাহ ধরে করোনার উর্ধ্বমুখী সংক্রমণে আতংঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। পরিস্থিতি চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইতিমধ্যে দ্রুত করোনা সংক্রমণের জন্য মোংলাকে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ৩০ মে (রবিবার) থেকে আগামী ৬জুন রোববার পর্যন্ত পৌরশহরে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। উপজেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার এক আদেশে এই বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করেন।
মোংলা পোর্ট পৌরসভায় এলাকায় লক ডাউনের প্রথম দিনে রোববার সকাল থেকেই শহরের কাঁচা, মুদি ও মাছ বাজার ব্যতিত সকল দোকান পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তবে ভ্যান, রিক্সা ও অটো রিক্সা চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শহরে লোকজনের উপস্থিতি অন্যদিনের তুলনায় কম দেখা যায়। এদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক পরিহিত ছিল। লকডাউন সফল করতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের টহল ছিল দেখার মতো। সকাল থেকেই প্রতিটি পয়েন্টে টহল জোরদার করা হলেও মানুষ তা মানতে অবহেলা করছেন কিন্তু পুলিশ ও আইন-শৃংখ্যলা বাহিনীর বাঁধার মুখে তা মানতে বাধ্য করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের দেয়া বিধিনিষেধে বলা হয়, মাস্ক পড়া ব্যতিত কাউকে রাস্তায় পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পৌর শহরে প্রবেশ সংকুচিত ও সীমিত থাকবে, জরুরী পরিবহন ব্যতীত আর কোনো যানবাহন শহরে ঢুকবে না। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে। ঔষুধ ও কৃষিপণ্য ব্যতিত সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান সকাল ৬ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্য এলাকা থেকে কার্গো ও লাইটার জাহাজ, বড় জাহাজ থেকে কোন নাবিক পৌরশহরে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রয়োজনে খাদ্যপণ্য পৌরসভার লোকজন জাহাজে পৌঁছে দেবে। এই কঠোরতা কার্যকরে একটি কমিটিও করা হয়েছে। নদী পারাপারের জন্য সর্বোচ্চ ১৬ জনের বেশি বহন করা যাবে না এবং সবাইকে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
এদিকে লকডাউনে সব বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে মোংলা বন্দরের বহিঃনঙ্গরে দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দর জেটিতে পণ্য খালাস-বোঝাই কাজ স্বাভাবিক গতিতে চলছে। শিল্প এলাকার বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতেও উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল। তবে বন্দর এলাকায় বাইরে থেকে সড়ক পথে আসা দুরপাল্লার যানবাহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করবে বলেও জানায় বন্দর কর্তপক্ষ।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর থেকে মোংলায় করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। গত মাসের ২০ তারিখ থেকে হাসপাতালে করোনা শনাক্তে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হলে ১ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। এভাবে প্রতিদিনই মোংলায় করোনা রোগী শনাক্ত করার কার্যক্রম চলে আসছে। গত এক সপ্তাহে ১০৯ জনের করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করানো হয়, তার মধ্যে ৬৩ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে শনাক্তের হার প্রায় ৭০ শতাংশ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জীবেতোষ বিশ্বাস বলেন, করোনার প্রথম দফায় ২০২০ সালে মোংলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯২ জন, যা ছিল জেলার অন্যান্য জায়গার তুলনায় খুবই কম। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত মোংলা হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেষ্ট শুরু হওয়ার পর থেকেই করোনা আক্রান্তের হার বাড়তে শুরু করে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে করোনা রোগীতে ভরে গেছে। এভাবে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যারা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পরবে।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মোংলায় সরকারের দেয়া কঠোর বিধি নিষেধ মেনে চলার জন্য প্রচারনা করার পরে মানুষ তা মানতে চাচ্ছে না কিন্তু মরণঘাতক থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানায় থানার এই কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, মোংলায় করোনা পজেটিভের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন বাঁচাতে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকে মাঠে রয়েছে। রোববারও মোংলার এক ব্যাবসায়ী মারা গেছে। আরোপ অমান্যকারীদের আইনের অয়োতায় আনা হবে। যে ৭টি বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা প্রতিটিইি মানুষের মেনে চলার আহবান জানায় এ কর্মকর্তা।
মোংলা উপজেলায় ৮ হাজার ৪৬৫ জনের করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছ্ েএখানে মোট আক্রান্ত হয়েছে-১৯৭ জন, মারা গেছে দুই ধাপে ৬জন। বেশ কয়েকজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসলেও বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।