মোংলায় ৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত ২০:একজনের মৃত্যু

17

>>উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাজুক অবস্থায় জনমনে ক্ষোভ
মোংলা প্রতিনিধি:মোংলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। এরমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন, আইসিইউ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। লকডাউনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে খোড়া অজুহাতে বিভিন্ন জেলা থেকে মোংলা শহরে মানুষ ঢুকছে।

মোংলায় চলমান কঠোর লকডাউন চললেও করোনার সংক্রমণ হার অনুকূলে আসছে না। এরফলে ৮দিনের লকডাউন শেষে সোমবার থেকে আরো এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড সদস্যরাও রয়েছেন বিভিন্ন চেকপোস্ট ও শহর এলাকায়। আরও খবর>>মোংলায় বাড়লো ৭দিনের কঠোর লকডাউন

এদিকে অনেকে অভিযোগ করেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই কোন আইসিইউ’র ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন। যার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাজুক। দুইটি এ্যাম্বুলেন্স আছে, তাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালের মাঠে, প্যাথলজি বিভাগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পৌর শহরের বাইরে প্রায় ৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকসহ অন্যান্য জেলা থেকে মানুষ মোংলা এলাকায় ঢুকছে হরহামেশা। তাই মানুষের সচেতনতার জন্য প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আহবান এলাকাবাসীর।

করোনার জন্য পৌর শহর এলাকায় সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা থাকলেও বেশকিছু জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে রিক্সা, ভ্যান, নছিমন ও ইজিবাইক চলাচল করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাই এক দিকে বলা হচ্ছে কঠোর লকডাউন, অন্যদিকে ছোট যান চলাচল নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা মোটেও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তারপরও মানুষকে সচেতন করার লক্ষে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পাশে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনী যেমন কাজ করছে তেমনি অন্যান্য সেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যদের এগিয়ে আসার দাবি স্থানীয়দের।

৩১ মে থেকে ৭ জুন গত এক সপ্তাহে মোট ২০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে মোট ৭জন। তবে সরকাা হিসাব মতে ৫জনের তালিকা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডাঃ জিবেতোষ বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে দুই দিনের নমুনা পরীক্ষার পরিবর্তে ৬দিন করা হয়েছে। এছাড়া যারা নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ হচ্ছেন তাদের সুচিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আর আক্রান্তের অবস্থা অবনতি হলে এখানে যেহেতু সেন্টাল অক্সিজেন ও আইসিইউ’র ব্যবস্থা নেই, তাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।