মোংলায় ১০৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৩ জন পজিটিভ:প্যানেল চেয়ারম্যানের মৃত্যু

24

মোংলা প্রতিনিধি:মোংলা উপজেলায় করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করলেও অনেক জায়গায় তা মানছেন না সাধারণ মানুষ। এদিকে সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলা চিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ নজরুল ইসলাম নজু (৪০) করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নজরুল ইসলাম বেশ কয়েকদিন যাবত জ্বর ও শাসকষ্ট নিয়ে নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। মৃত্যুর এগ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন খুলনায় একটি পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ ছিল।
ইউএনও আরো বলেন, মোংলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ছড়িয়ে পড়ছে। ভারত থেকে পণ্য নিয়ে লাইটার ও কার্গো জাহাজ বন্দর চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় এখানে নোঙ্গর করে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করার সুত্রধরে এই এলাকায় অবাধ বিচরণ ও ইদ পরবর্তী সময়ে লোকজন আসা-যাওয়ার কারণেই করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে মোংলাসহ এর আশ-পাশ এলাকায়। যার কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর ৮দিনের কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মাস্ক পরা ব্যতিত কাউকে পাওয়া গেলে তাকে আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা, পৌর শহরে প্রবেশ সংকুচিত, ঔষধ, জরুরি কৃষিপণ্য ব্যতিত সকল দোকানপাট বন্ধ, মাছ-মাংস-ফলের দোকান ও কাচা বাজার ব্যতিত সকল দোকান বন্ধ, নদী পারাপারে সীমিত, ভারতীয় নৌযানের নাবিকদের শহরে প্রবেশে নিষেধসহ আরও কিছু শর্তারোপ করা হয়। কিন্তু অনেক স্থানেই তা মানার চেষ্টা করছেন না সাধারণ মানুষ। যেকারণে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে ১০৯ জনের করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করানো হয়, তার মধ্যে ৬৩ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৭জনের। বর্তমানে শনাক্তের হার প্রায় ৭০ শতাংশ।
সবমিলিয়ে মোংলায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহরুপ নিচ্ছে-এমনটিই দাবি করেছেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিসহ স্থানীয় সচেতন মহল।