মোংলায় ধর্ষণের বিচার নিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের তালবাহনা:এক মাস পর মামলা

14

মোংলা প্রতিনিধি:মোংলায় প্রতিবন্ধী এক যুবতীকে (১৯) ধর্ষণের একমাস ৫দিন পর মোংলা থানায় মামলা হয়েছে। এঘটনায় অভিযুক্ত নয়ন মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে তার নিজ বাস থেকে আটক করা হয়। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের দত্তেরমেঠ নয়ন মন্ডলের বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরনে জানা যায়, মোংলা উপজেলার জনৈক ব্যক্তির প্রতিবন্ধী কন্যা (১৯) এলাকার একটি স্কুলে মায়ের সাথে এক এনজিও’র কর্মশালায় যোগদান করে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেয়েটি একা বাড়ির দিকে রওনা হয়ে নয়ন মন্ডলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে রাস্তায় নয়নের সাথে দেখা হয়। এসময় মেয়েটিকে মিস্টি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার গৌতম মন্ডলের ছেলে নয়ন মন্ডল। পরে বিষয়টি তার মাকে বললে তারা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে জানিয়ে বিচার দাবি করেন।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও দুই মেম্বর সমঝোতার কথা বলে ধর্ষিতার বাবাকে নানাভাবে ঘুরিয়ে আসছেন। তখন তারা থানায় কোন অভিযোগও করতে দেননি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল পলাতক ছিল। তবে ধর্ষণের ঘটনা প্রভাবশালীদের চাপের মুখে বিচার না হওয়ায় এবং এলাকার সর্বমহলে জানাজানি হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আজমল হোসেন ও সজল ছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান ই¯্রফিল হাওলাদারের মধ্যস্থতায় শালিস বৈঠক করে সমাধান করবেন বলে জানা গেছে। কিন্তু ঘটনার এক মাস পার হলেও কোন বিচার না পেয়ে প্রতিবন্ধী এই মেয়েকে সাথে নিয়ে শুক্রবার রাতে মোংলা থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন বাবা। রাতেই মোংলা থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে নয়ন মন্ডলকে আটক করে।
ধর্ষণের শিকার ওই যুবতীর বাবা বলেন, আজমল ও সজল মেম্বর বলেছিল তাদের চেয়ারম্যান ই¯্রাফিলের মাধ্যমে বিচার করবেন। কিন্তু চেয়ারম্যান এখনও বিচার করেননি। এ ব্যাপারে ওই দুই মেম্বর থানায় অভিযোগও করতে দেয়নি।
ইউপি মেম্বর সজল বলেন, আমি এ ঘটনার কিছু জানি না। তবে মেম্বর আজমল সব কিছুই জানে। আর অপর মেম্বর আজমল বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান ই¯্রাফিল হাওলাদার ইউপি নির্বাচন নিয়ে ঝামেলায় রয়েছেন। যেকারণে বিচার করা সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচনের পরে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এদিকে মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ইস্্রাফিল হাওলাদার বলেন, প্রতিবন্ধী ধর্ষণের একটি ঘটনায় সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্ত যে ঘটনা ঘটিয়েছে সে পলাতক থাকায় একটু দেরি হয়েছে। এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতে থানায় মামলার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, শুক্রবার রাতে এক প্রতিবন্ধী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রাতেই ধর্ষক নয়ন মন্ডলকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে এক মাস ৫দিন পরে মামলা হওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এতোদিন থানায় কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। শুক্রবার অভিযোগ পেয়ে মামলা নেয়া হয়েছে এবং আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।