মোংলায় তেলের ট্যাংকারে আগুন লেগে নাবিকের মৃত্যু

28

মোংলা প্রতিনিধি:মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত একটি তেলের ট্যাংকারে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে পশুর চ্যানেলের গ্রিন টাউন গ্যাস কোম্পানির জেটি সংলগ্ন নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ এক নাবিককে খুলনা মেডিকেলে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। অপর একজনকে খুলনায় মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রায় আধঘন্টা চেষ্টার পর বন্দরের অগ্নি নিয়ন্ত্রণকারী জাহাজ এম টি সুন্দরবন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
রোববার দুপুরে পশুর নদীতে অবস্থানরত তেল বোঝাই নৌযান এম টি সি-লিংক উৎসব নামক ট্যংকারে হঠাৎ নৌযানটির ইঞ্জিনরুমে আগুন ধরে। এ সময় ইঞ্জিন রুমে থাকা দুই নাবিক (গ্রিজার) মোহাম্মাদ আলী মিয়া ও ইয়াসির অগ্নিদগ্ধ হয়। বন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণকারী জাহাজ এমটি সুন্দরবন আধ ঘন্টা চেস্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত দু’জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে আলি মিয়াকে খুলনা মেডিকেলে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানায় বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন।
তেলবাহী জাহাটির কোয়াটার মাস্টার সিরাজুল ইসলাম বলেন, চট্ট্রগ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ১৯ লক্ষ লিটার ডিজেল নিয়ে দুই দিন পুর্বে রওয়ানা হই খুলনা ডিপোতে আসার জন্য। কিন্তু রোববার দুপুরে আমরা সবাই জাহাজটির উপরে বসা ছিলাম। এসময় জাহাজটির দুই জন মেশিনম্যান (গ্রিজার) নাবিক মেশিনরুমে কাজ করছিল। হঠাৎ মেশিনরুমে ভিতর থেকে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আমরা দৌঁড়ে সেখানে যাই কিন্তু প্রচন্ড তাপ ও ধোঁয়ার কারণে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এর কিছুক্ষণ পরপরই মেশিনরুমে থাকা দুই গ্রিজার নাবিক আলী ও ইয়াসির আগুনে ঝলছে যাওয়া অবস্থায় উঠে আসলে আমাদের লোকজন ডাক চিৎকার শুরু করে এবং আশপাশের লোকজন ছুঁটে এসে আমাদের উদ্ধার করে।
তেলের ট্যাংকারের মাস্টার সৈয়দ আহাম্মদ জানান, মেঘনা পেট্রলিয়াম কর্পোরেশনের তেল বহনকারী ওটি সি-লিংক উৎসব নামক একটি ট্যাংকারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে পুড়ে আহত হন ট্যাংকারটির দুই কর্মচারী। খুলনায় নেয়ার পথে একজন মারা যান এবং অপরজনকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তবে জাহাজটির অন্য জায়গায় তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জাহাজটির ইঞ্জিনরুম সম্পুর্ণ রুপে গেছে। এই জাহাজটিতে দুই মাস্টারসহ ১৩ জন নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই গ্রিজার মেশিনরুমে কাজ করছিলেন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন জানান, চট্ট্রগ্রাম থেকে মেঘনা পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন ডিপোর তেল বোঝাই করে এম টি সি-লিংক নামক ট্যাংকারটি খুলনায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় দুপুর দুইটার দিকে বন্দর জেটির দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে হঠাৎ ইঞ্জিনরুমে আগুন লাগে। পোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত বন্দরের অগ্নি নির্বাপনকারী জাহাজ এমটি সুন্দরবনকে সেখানে পাঠানো হয়। এছাড়াও বাগেরহাট, মোংলা ইপিজেড ও বন্দরের ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিটও আমাদের সাথে সহায়তা করেছে। তবে জাহাজটি পশুর চ্যানেলের মাঝখানে থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জাহাজটিতে গিয়ে এমটি সুন্দরবনকে সহায়তা করেছে। যারফলে বন্দরের অগ্নি নির্বাপক এম টি সুন্দরবন জাহাজ প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তেলবাহী জাহাজের অন্য জায়গার তেমন ক্ষয়-ক্ষাত না হলেও মেশিনরুমে বেশ ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বন্দরের এবা উর্ধতন কর্মকর্তা।
বাগেরহাট ফায়ার সাভিসের উপ-সহকারী পরিচালন সরোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে আমাদের সব জায়গার ৩টি ইউনিট বন্দরের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলাম। কিন্তু জাহাজটি নদীর মাঝখানে থাকায় আগুন নেভাতে আমাদের পানির প্রয়োজন হয়নি। বন্দরের এম টি সুন্দরবনে যে পানি ছিল, তাই দিয়েই আমাদের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
তবে ইঞ্জিন রুমে থাকা ট্যাংকারের দুই কর্মচারী আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হন। আমরা আসার পুর্বেই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে মোংলা বন্দর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে বন্দরের কর্মরত চিকিৎসক। খুলনায় নেয়ার পথে মোহাম্মাদ আলী নামের এক নাবিকের মৃত্যু হয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ইয়াসির নামের আরেক নাবিককে খুলনায় মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আগুনের ঘটনায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কোন সূত্র।