মোংলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা উপমন্ত্রীর পরির্দশন

26

মোংলা প্রতিনিধি:পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেছেন, ঘুর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর তাণ্ডব থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার উপকুলবাসী। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এবারও রক্ষা করলো মায়ের মতো উপকূলবাসীকে আগলে রাখা সুন্দরবন। তারপরও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা দুঃখ বা কষ্ট নেবেন না। আমি এবং খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আঃ খালেক যতদিন বেচেঁ থাকবো মোংলা-রামপালে একটি মানুষও না খেয়ে বা গৃহহীন থাকবে না, এটা প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি। যতটুকু ক্ষতি উপজেলাবাসীর হয়েছে তা পুষিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করবো। মোংলায় জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস’র তান্ডবে ৩টি ইউনিয়নে ৫১০টি কাঁচা ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় উপজেলার চিলা, চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৬শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বুধবার থেকেই উপজেরা পরিষদের পক্ষ থেকে এসব অসহায় পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সবাইকে স্বান্তনা দেন।
এদিকে, সরকারি ভাবে সহায়তা ছাড়াও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মোংলা উপজেলার বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার।
অন্যদিকে, ঘুর্ণিঝড় ইয়াস’র তা-বে পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ৬ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেসে গেছে উপজেলার ৬৮৫টি ঘেরের চিংড়ি মাছ। এতে এখানকার মৎস্য চাষিদের সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা-এমনটিই ধারণা করছে মৎস্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তবে মৎস্য চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, বুধবার দুপুরে যখন ভেরিবাঁধ ভেঙ্গে আমাদের মৎস্য ঘের তলিয়ে যায়, তখন বার বার মৎস্য অফিসকে ফোনের মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু অফিসারদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ওই সময় এসব অসহায়দের পাশে শুধু মাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভুমি), ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সিপিপি সেচ্ছাসেবদেরা ছিলেন। এছাড়াও এবারের ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনের দুবলা, কটকা, কচিখালী ও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রেও বেশ ক্ষতি হয়েছে। মারা গেছে কয়েকটি মায়াবি হরিণ ও ডলফিন- জানিয়েছে বনবিভাগ।