মোংলায় অগ্নিকান্ডে মন্দিরসহ ৫টি বসত ঘর পুড়ে ছাই: ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

18

বাগেরহাট প্রতিনিধি:মোংলার ধনখালী এলাকায় আগুনে পুড়ে গেছে মন্দিরসহ ৫টি বসত ঘর। এতে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। বৈদ্যুতিক সটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে, রান্না ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আরও খবর>>কালিয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরে দুর্বৃত্তের আগুন

 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধনখালী গ্রামের দুলাল মন্ডলের (৬২) বসত ঘরে রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘরে ঘুম থাকা গৃহকর্তা দুলাল ও তার স্ত্রী এবং ছেলে দ্রুত বাহিরে বেরিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুলাল মন্ডলের বাড়ির পারিবারিক উপাসনালয়সহ ৫টি বসত ঘরে। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা মোংলা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে আধ ঘন্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে থাকা পানি দিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন তারা। গাড়ির পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসলে তারা পাশের খালে পাইপ সংযোগ লাগান। ততক্ষণে আগুনে পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায় দুলাল মন্ডলের দোতলা কাঠ-টিনের একটিসহ ৪টি ঘর ও একটি উপাসনালয়। আগুন নিভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় কয়েকজন আহতও হয়েছেন। এ অগ্নিকান্ডে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঘর মালিক দুলাল মন্ডল। তিনি বলেন, তার ঘরে নগদ ৫ লাখ টাকা ও বেশ কয়েক ভরি স্বর্ণালংকারসহ অনেক মূল্যবান মালামাল ছিল। ছিল ঘরের দলিলপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্রও। দুলাল মন্ডল পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ও জমিজমার মালিক। এছাড়া তিনি একজন অবসরপ্রাপ্তস্কুল শিক্ষক। তিনি বলেন, তার বাড়ির উপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের পিলার ও সার্ভিস ক্যাবল রয়েছে। তাই বৈদ্যুতিক সটসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে মোংলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো: আহাদুজ্জামান বলেন, ফায়ার সার্ভিস থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আগুন লাগার খবর পেয়ে আধ ঘন্টার মধ্যে আমরা সেখানে গিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে ওই বাড়ির রান্না ঘর থেকেই এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটেছে। ওই বাড়িতে কাঠের চুলার পাশাপাশি গ্যাসের চুলাও ছিল।