মুভমেন্ট পাস নিয়ে হেরোইন পাচার !

18

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউনে স্যানিটাইজার ও মাস্ক পরিবহনের জন্য মুভমেন্ট পাস নিয়ে হেরোইন পাচার করছিল সৌমিক আহমেদ সিদ্দিক নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার ভোরে র‌্যাব-২ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করেছে।

তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩২০ গ্রাম হেরোইন। হেরোইন বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, চলমান লকডাউনে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় মাদকদ্রব্য বহন করা যাচ্ছিল না। তাই মাস্ক ও স্যানিটাইজার বহন করার নামে মুভমেন্ট পাস নিয়ে হেরোইন পাচার করছিল সে।

র‌্যাব-২ জানিয়েছে, র‌্যাবের কাছে তথ্য ছিল সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইনের চালান আসছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের সামনের সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে গাড়িতে থাকা সৌমিক আহমেদ সিদ্দিককে আটক করা হয়। তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ৩২০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌমিক আহম্মেদ সিদ্দিকী মূলত মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করে রাজশাহী থেকে হেরোইন নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে যত স্থানে তাকে পুলিশ দাঁড় করিয়েছে, সব স্থানেই পুলিশ পাসের দোহাই দিয়েছে। সব স্থানেই মাস্ক আর স্যানিটাইজার সাপ্লাইয়ের কথা বলেছে। কারণ, সে জানে করোনাকালে এই দুই জিনিসের কথা বললে পুলিশ ছেড়ে দিবে। অথচ, সে কিন্তু মূলত মাদক ব্যবসায়ী। তার কাছে পাওয়া ৩২০ গ্রাম হেরোইনের দাম আনুমানিক ৩২ লাখ টাকা বলে আমরা জেনেছি।’

অপারেশন অফিসার আরও বলেন, ‘শুধু বলেছে এমন নয়, পুলিশ যদি কোনোভাবে গাড়ি চেক করে, সেজন্য গাড়িতে কিছু মাস্ক আর স্যানিটাইজারও রেখেছিল। আসলে এসব কিছু না। সে নিয়মিত মাদক সাপ্লাই দেয় ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে। এরা মূলত একটি মাদকচক্র। এই চক্রে আর কারা কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে র‍্যাব। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। তাকে থানায় হস্তান্তরও করা হয়েছে।’

র‌্যাব-২-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন আরো   জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সৌমিক করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বহনের জন্য মুভমেন্ট পাস নিয়েছিল। পাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য বহন করে নিয়ে আসে এই ব্যক্তি। এই মাদক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সে সরবরাহ করে। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাকে।