মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতার বিরুদ্ধে ১২ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিন্দা

14

মিয়ানমারে শনিবার সেনা অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে শতাধিক মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনায় ১২টি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এক বিরল যৌথ বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর সহিংস আচরণের নিন্দা জানিয়েছে।

রবিবার এ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি পেশাদার সামরিক বাহিনী তার আচরণের জন্য আন্তর্জাতিক মান মেনে চলে এবং যে জনগণের জন্য এরা নিয়োজিত তাদের রক্ষার দায়িত্ব পালন করে, ক্ষতি করার নয়।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে জান্তা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষের নিহত হওয়ায় ‘আতঙ্ক’ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন অভিযোগ করেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ চালাচ্ছে যা ‘অল্প কিছু মানুষের জন্য জনগণের জীবনকে উৎসর্গ করছে’।

ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গতকাল শনিবার ছিল দেশটিতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউ জানিয়েছে, এদিন সারাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শিশুসহ ১১৪ জন নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত একদিনে এটাই সর্বোচ্চ নিহতের সংখ্যা।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস বলেছেন, এই সহিংসতায় তিনি ‘গভীরভাবে হতবাক’ হয়েছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব একে ‘নতুন অবনতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মিয়ানমারে নিয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি বলেন, শনিবার- আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী দিবস- এটি সন্ত্রাস ও অসম্মানের দিন হিসেবে খচিত হয়ে থাকবে।

রোববার নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় লোকজনের সমবেত হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস সামনে রেখে আগেই বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীরা। তবে সেই আন্দোলনে গেলে মাথা ও পিঠে গুলি করা হতে পারে বলে শুক্রবার রাতে হুঁশিয়ারি দেয় জান্তা সরকার। সেই হুঁশিয়ারি বাস্তবে পরিণত করে এদিন শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গুলি হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী।

গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সেনাবাহিনী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই সর্বস্তরের জনতা সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স