মালয়েশিয়ায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে একুশে ভাষা দিবস উদযাপন

122

বাপ্পী কুমার দাস,মালয়েশিয়াঃ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ছাত্রলীগ মালয়েশিয়া শাখার উদ্যোগে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এ সময় মহান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সকল শহীদ ও ভাষা সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া কামনা করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া ছাত্রলীগের সাবেক সহ -সভাপতি তারেকুল আলম চৌধুরী ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মওদুদ মোল্লা। আরো উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়া ছাত্রলীগ নেতা খন্দকার মোঃ রকি, আশিকুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ আপন, এবাদুল্লাহ, আব্দুর রহমান, আব্দুর রহিমসহ আরো অনেকে। সভায় ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হয় মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের আহবায়ক এম রেজাউল করিম রেজা, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কামাল, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মকবুল হোসেন মুকুল, মালয়েশিয়া ছাত্রলীগের সাবেক সফল আহবায়ক হুমায়ুন কবির, যুগ্ম-আহবায়ক ওয়াসিম ওয়াজেদ, যুগ্ম-আহবায়ক রাসেল শিকদার, যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দ মিনহাজ, মালয়েশিয়া ছাত্রলীগের সাবেক সফল সভাপতি শাহিনুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক এম রায়হান কবির, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস কে আরমান, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন ফাহাদী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তৌহিদ নিজাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত হোসেন আলিম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল ব্যাপারী সহ অন্যান্য সাবেক নেতৃবৃন্দ। ভিডিও কলে বক্তারা মালয়েশিয়া ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, ভাষা শহীদদের প্রতি সন্মান প্রদর্শনের জন্য এত সুন্দর একটা অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য। এবং মালয়েশিয়া ছাত্রলীগকে আরো গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

মালয়েশিয়া ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মালয়েশিয়াতে অস্থায়ী শহীদ মিনারের মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মওদুদ মোল্লা বলেন, বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর জাতীয় জীবনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। একুশ মানেই হলো- পরাশক্তির কাছে মাথা নত না করা। একুশ একটি বিদ্রোহ, বিপ্লব ও সংগ্রামের নাম। ‘একুশ’ হল মায়ের ভাষায় ভাষায় কথা বলার জন্য রাজপথ কাপানো মিছিল, স্লোগান, আন্দোলনে মুখরিত একটি মুহূর্ত। এই দিনে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা তাদের বুকের তাজা রক্তে পিচ ঢালা রাজপথে সিক্ত করে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার কে আদায় করেছে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীয় কবল থেকে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এদেশের জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যবহ দিন। আর একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করেই বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা ঘটে এবং শোষণ ও পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত হয় এদেশ ও জাতি। হয় বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের প্রচেষ্টা। ৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, ৬২ সালের ছাত্র অভ্যুত্থান, ৬৬ সালের ৬ দফা ভিত্তিক আন্দলোন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭০- এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির অভাবনীয় সফলতা একুশকে কেন্দ্র করেই অর্জিত হয়েছে। মূলত একুশকে কেন্দ্র করেই বাঙালি সংগঠিত হয়েছে এবং আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায়ের কৌশল রক্ত করেছে।যার ফলে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। পরিশেষে বলতে চাই, একুশ হোক জগতের সকল অনৈক্য, সংঘাত ও অশান্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ হাতিয়ার, হোক সমুদ্রপথের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অন্ধকার রাতের আশার প্রদীপ, সঠিক পথের দিক নির্দেশক পাঞ্জেরী।