মামুনুলের নারীকান্ড:হেফাজতে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন

64

এবিসি ডেস্ক:হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নারীকান্ড নিয়ে প্রকাশ্যে দলটির কেউ বিরোধিতা না করলেও ভেতরে ভেতরে অনেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। আপাতত সংগঠনের ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষা করার জন্য সবাই মামুনুল ইস্যুতে চুপ থাকলেও ভবিষ্যতে তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। দলটির ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে জানিয়ে একাধিক সূত্র জানায়, মামুনুল বৈধ বা অবৈধ যাইহোক না কেন, নারীকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে চরম দৈন্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের অনেক নেতা মনে করছেন, মামুনুল হকের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলাফেরা করতেন। তা না হলে এরকম একটা সময়ে অবৈধ হোক আর বৈধ হোক, স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে সময় কাটাবার জন্য যেতে পারেন না। আরও খবর>>নারায়নগঞ্জে মামুনুল হকসহ ৮৩ জনের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের

মামুনুলকাণ্ডের পর হেফাজতের একাধিক নেতার ফাঁস হওয়া ফোনালাপেও মামুনুল হকের প্রতি ক্ষোভের কথা জানা গেছে। ওই অডিওতে মাওলানা ফজলুল করিম কাশেমী ও ফয়সাল আহমেদ নামে হেফাজতের দুই নেতা মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডকে ভুল আখ্যায়িত করে যেকোনও মূল্যে তাদের অবস্থান শক্ত করে ধরে রাখার পরামর্শ করেন। নারী সঙ্গী নিয়ে রিসোর্টে যাওয়া মামুনুল হকের অদূরদর্শিতা আখ্যায়িত করে ওই নেতা মামুনুল হককে কিছু নসিহত করতে বলে আলোচনা করেন। মামুনুল হক ও ওই নারীকে বছিলার একটি ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছে জানিয়ে তারা আগে হেফাজতের ‘মান’ বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন। মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডে দুই হেফাজত নেতা ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

হেফাজতের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, মামুনুল হকের রিসোর্ট কেলেঙ্কারির কারণে সরকার একটি সুযোগ পেয়েছে। তা না হলে মোদিবিরোধী কর্মসূচীর ঘটনায় যতগুলো মামলা হয়েছে তাতে হেফাজতের সিনিয়র কোনও নেতৃবৃন্দের নাম ছিল না। মামুনুল হকের ঘটনার পর মামলায় তাকেসহ সিনিয়র নেতাদের নামে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেফাজতের বিষয়ে তারা কৌশলী হয়ে সামনের দিকে আগাচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৭ এপ্রিল) নেত্রকোনা থেকে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের যেসব হেফাজত নেতারা সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছেন তাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের চলাফেরাও গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। যে কোনও সময়ে এদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে হেফাজত বিভিন্নস্থানে হামলা করেছে। ভূমি অফিস পুড়িয়েছে। সরকারি অনেক অফিস আদালত ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করেছে। এজন্য নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এসব বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানান তিনি।