মহেশপুরে সরকারি জমিতে প্রভাবশালী মহলের পুকুর খনন:উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

30

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নলপাতুয়া গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ এলাকার প্রভাবশালীদের দখল থেকে সরকারি জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘন্টা নলপাতুয়া জলুলী সড়কের ধারে ও এলাকার প্রভাবশালীদের দখলে থাকা জমিতে এ মানববন্ধন করেন নলপাতুয়া ও তালপট্্ির পাড়ার গ্রামবাসী।

গ্রামবাসী জানান, সরকারের নলপাতুয়া মৌজায় একের ১ খতিয়ানের ৬৬ একর ৭০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালীরা দখল করে চাষাবাদ করে আসছিলো। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ¦ শহিদুল ইসলাম মাস্টার গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছিলেন। পরে ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মহেশপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিব আহসানের নিকট ভুয়া দলিলের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রিকৃত জমি ফেরত দেন।
কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এলাকার প্রভাবশালীরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সরকারি জমি ও সরকারের বিল দখল করে একের পর এক পুকুর খনন করে চলেছে।
নলপাতুয়া গ্রামের ইউছুব আলী জানান, সরকারের ৬৬ একর জমি এলাকার আতিয়ার রহমান, রজব আলী মাস্টার, খলিলুর রহমান, সালমা খাতুন, বাবুল হোসেন, হাবিবুর রহমান, মুজিবর রহমানসহ ১২ জন দখল করে নিয়েছেন। এরমধ্যে কয়েকজন বড় বড় পুকুরও খনন করেছেন। আমরা সরকারের জমি সরকারের কাছে থাক এটাই দাবি জানায়।
খড়োমান্দারতলার দুদু খন্দকার জানান, সরকারের জমি সরকারের কাছে থাকবে এটাই আমার দাবি। সরকারের জমি এলাকার প্রভাবশালীরা নিজেদের নামে কিভাবে রেকর্ড করে নেন-তাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তালপট্্িরপাড়ার সিরাজুল ইসলাম জানান, শুধু আমরা নয়, এলাকার শত শত মানুষ সরকারের এই খালে মাছ ধরেছে। অথচ এখন এলাকার প্রভাবশালী মহল সব দখলে নিয়ে বড় বড় পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এরফলে সাধারণ মানুষ অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা সরকারের জমি সরকারের ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়।
যাদবপুর ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম শাহীদুল ইসলাম জানান, সরকারের এতো জমি কিভাবে ব্যক্তি মালিকরা দখল করে, তা আমার জানা নেই। আমি সরকারের দখল হওয়া জমি উদ্ধার করার পক্ষে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজি আনিচুল ইসলামের সরকারি নম্বনসহ ২টি মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ^তী শীল জানান, খুব দ্রুতই আমরা সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা নেব। সরকারের জমি কেউ জোর করে দখলে রাখতে পারবে না।