মধুর স্বর্গ সুন্দরবনে মধু পাওয়া দুস্কর!

14

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়াসহ প্রচন্ড তাপদহের কারণে চলতি বছরে সুন্দরবনে মধুর দেখা পাচ্ছেন না মৌয়ালরা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বনের গভীরে ২/১টি মৌচাক পেলেও তাতে তেমন মধু মিলছে না। তাও যেটুকু মিলঠে তাতে নেই স্বাদ। মধুর রং অনেকটা কালো।
মৌয়ালদের মতে, চলতি বছরের অনাবৃষ্টির কারণে বনের বিভিন্ন গাছের ফুল শুকিয়ে ঝড়ে গেছে। তাই গোটা সুন্দরবন জুড়ে এবার মধুর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির উপর নির্ভর করে মৌচাকে মধু বৃদ্ধি। যেহেতু বহুদিন বৃষ্টির দেখা নেই, তাই ফুলেও মধু জমেনি।
বনবিভাগের তথ্য মতে, চলতি মধু আহরণ মৌসুমে ২ হাজার ৪৫০ কুইন্টাল মধু ও ৭১৫ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। তবে, এবছর পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় লক্ষ্য মাত্রা পুরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বন সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা জালাল আহম্মেদসহ সোনাতলা, বগী, চালিতাবুনিয়া এলাকার কয়েকজন মৌয়াল বলেন, এবার জঙ্গলে মধু পাওয়া খুবই দুস্কর। মাইলের পর মাইল খুঁেজও মৌচাক পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা ২/৪টি পাওয়া গেলেও তাতে মধু হয় ১ থেকে ২ কেজি। প্রতি কেজি মধু পাইকারী বাজারে এক হাজার টাকা করে বিক্রি করলেও পুজিঁ বাঁজবে না। তারপরেও প্রত্যেক মৌয়ালকে ২ কেজি করে মধু সংশ্লিষ্ট ফাঁড়িসহ ক্যাম্পের বনরক্ষীদের ঘুষ দিতে হবে। কারণ এটা নাকি শরণখোলা রেঞ্জের (এসিএফ) স্যারের নির্দেশ। যার ধারা বাহিকতায় মৌয়ালদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মধু আদায় করতে গিয়ে উভয়পক্ষের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ১৬ এপ্রিল বিকেলে শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা তাদের সন্নিকটে থাকা পাঁচ মৌয়ালকে আটক করে এবং তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের শিকার বন লাগোয়া সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. শহিদুল হাওলাদার (৩৩), মো. ছলেমান হাওলাদার (২৯), রফিকুল গাজী (৪১), আফজাল হোসেন(৪৩) ও রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা বেল্লাল হোসেন (২৭)। এমনকি বনরক্ষীদের কাছে ওই মৌয়ালদের জমা রাখা ৫০ মন মধু সহ নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ওই ক্যাম্পের বনরক্ষীরা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিত মৌয়ালদের স্বজনরা। তবে, বন বিভাগ দাবি করেন, অভায়ারণ্যে এলাকায় প্রবেশ করে বনজ সম্পদ আহরণ করায় ওই মৌয়ালদের ১৬ এপ্রিল আটক করা হয়। পরে বন আইনে মামলা দিয়ে ১৭ এপ্রিল কোর্টে চালান করা হয়।
এ বিষয়ে পুর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) আব্দুল মান্নান জানান, গত ১ এপ্রিল হতে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে হতে মধু আহরণের জন্য মৌয়ালদের অনুমতি (পাস) দেয়া শুরু হয়। তবে চলতি মৌসুমে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার মধু উৎপাদন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।