মণিরামপুরে সেই প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

23

মণিরামপুর প্রতিনিধি:মণিরামপুর উপজেলার গোপিকান্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার বিদ্যলয়ের পরিচালনা পরিষদ এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করলো কমিটি। একই সাথে প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে আগামী দুইদিনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম রায়কে বিদ্যালয়ের যাবতীয় কাগজপত্র বুঝে দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নিতাই চন্দ্র পাল জানান, বিদ্যালয়ের চলমান কমিটিকে পাশ কাটিয়ে গত ১২ জানুয়ারি আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক মণিরামপুর শাখা থেকে রিজার্ভ ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও ২০১৯ সালে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের কোন কমিটি ছিল না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি একটি ভূয়া কমিটি দেখিয়ে মণিরামপুর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে বিদ্যালয়ের নামে রাখা স্থায়ী সঞ্চয় (এফডিআর) এর টাকা উত্তোলন করে করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ৭ দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে গত ১৮ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করে। গত গত ২৫ এপ্রিল তার এই নোটিশের জবাব দেয়ার শেষদিন থাকলেও তিনি জবাব না দিয়েই পেশিশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ সকল ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় সাধারন ডায়েরী করেন। যার নং-৮১৯।
পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল গণি গত ১৮ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনের বাড়িতে কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে গেলে তাকে ৪ ঘন্টা জিম্মি করে রাখা হয়।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের শিক্ষক প্রতিনিধি কাজল কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে তার দায়িত্ব থেকে রোববার গোঃ মাঃ বিঃ/সঃ/৫/২১ স্মারক নং বরখাস্তদেশ পত্র (সাময়িক বরখাস্ত) বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আলী আকবর-এর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনের নিকট পৌছে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।