মণিরামপুরে সেই পুকুর পুনঃখননের টেন্ডারেও দুর্নীতি!

7

>>মোটা অংকের অর্থ লেনদেনে অদল-বদল করা হয় ঠিকাদার
মণিরামপুর প্রতিনিধি:মণিরামপুরে সেই দু’টি পুকুর পুনঃখননের টেন্ডারেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। মেসার্স জাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েও পরে কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল ইসলাম ও তার জামাতা আইনুল ইসলামকে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়। মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে টেন্ডারে এই অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাহিদ এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারি জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, কোটেশনের ভিত্তিতে এবং পিআইসির মাধ্যমে পুকুর পুনঃখননে তার প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করে। তিনি সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে হায়াতপুর পুকুর পুনঃখননের কাজ পান। তারপরও সংশ্লিষ্ট অফিসের সাবেক ডিপিডি (উপ প্রকল্প পরিচালক) মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন জেলা মৎস্য কর্মকতা আনিছুর রহমান।

সূত্রমতে, সে মোতাবেক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হায়াতপুর পুকুর পুনঃখননের কার্যাদেশ দেয়া হয়। যার ক্রয় আদেশ নম্বর ৩৩.০২.৪১০০.৪০০,৮৭.০১৫.২১.১৯৯। একই এলাকার বাগবাড়িয়া পুকুর পুনঃখননের জন্য এলসিএস দল নেতা (চুক্তিবদ্ধ ভূমিহীন সমিতি) নির্বাচন পূর্বক কমিটি জমা দেয়ার কথাও বলা হয়। কিন্তু কয়েকদিন পার হতেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান সুর পাল্টে আরও অর্থ দাবি করেন। চাহিদা মাফিক অর্থ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তার কার্যাদেশের সময় পার হওয়ার আগেই আবুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও তার জামাতা আইনুল ইসলামকে এলসিএস’র দলনেতা দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকার পুকুর পুনঃখননের কাজ পাইয়ে দেয়া হয়। জাহিদুল ইসলাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে উপর মহলের চাপ আছে, তাই কিছুই করার নেই বলে জানিয়ে দেয়া হয়। গত দুইদিন আগে তার প্রদানকৃত ২০ হাজার টাকা ফেরত নেয়ার জন্য সাবেক ডিপিডি মাহবুর রহমান তাকে মোবাইলে ফোন করেন কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।
এ ব্যাপারে সাবেক ডিপিডি মাহবুর রহমান জানান, ওই ঠিকাদারের (জাহিদুল ইসলাম) বাড়ি যশোর শহরের হওয়ায় মণিরামপুর উপজেলায় কাজ করতে অসুবিধা হবে বিধায় যেতে চাননি। যা নীতিমালা মেনেই পুনরায় কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।
অবশ্য এ কথা মানতে নারাজ ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম। যশোর জেলার আরও কয়েকটি উপজেলায় পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছে। যা জেলা মৎস্য অফিসের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করা হচ্ছে। খননের কাজের ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিন ভাড়া করাসহ যাবতীয় কাজ অফিসের ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করা হয়। তিনি (জাহিদুল ইসলাম) তাদের (জেলা মৎস্য অফিস) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করতে না চাওয়ায় মোটা অংকের রফাদফা করেই অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পুনরায় কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলেই অনিয়ম-দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।
জেলা মৎস্য অফিসার আনিছুর রহমান অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তার জানা নেই দাবি করে বলেন, স্থানীয় পলিটিক্সের অস্থিরতার কারনে মেসার্স জাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করতে চাননি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (মেসার্স জাহিদ এন্টারপ্রাইজ) কিছু টাকা থাকতে পারে। কাজ না করলে ফেরত নিতে পারেন।