মণিরামপুরে দুটি পুকুর পুনঃখননের অর্থ নয়-ছয় করতে মরিয়া জামাই-শ্বশুর

9

>>জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প
মণিরামপুর প্রতিনিধি:জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় দু’টি পুকুর পুনঃখননের নামে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৪ লাখে কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের পায়তারা শুরু করেছেন জামাই-শ্বশুর। শ্বশুর মণিরামপুর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল ইসলাম এবং জামাই আইনুল ইসলাম। জামাইকে ভূমিহীন দেখিয়ে শ^শুর-জামাই মিলে পৃথক দু’টি প্রকল্পের একটির দলনেতা জামাই আইনুল ইসলাম এবং অপরটির ঠিকাদার শ্বশুর আবুল ইসলাম যিনি একই পুকুরের বন্দোবস্ত গ্রহণকারিও বটে।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের পুকুর পুনঃখননে ১২ লাখ ৪৪ হাজার এবং একই ইউনিয়নের হায়াতপুর পুকুর পুনঃখননে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। হায়াতপুর পুকুর পুনঃখনন কাজের ঠিকাদার উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল ইসলাম এবং বাগমারা পুকুর পুনঃখননের এলসিএস দলনেতা (চুক্তিবদ্ধ ভূমিহীন সমিতি) জামাই আইনুল ইসলাম। দু’টি প্রকল্পের কাজই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং ৩১ মার্চ সমাপ্তির সম্ভাব্য তারিখ ধার্য্য হয়। এরমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে বলে দুই প্রকল্পের ঠিকাদার ও দলনেতা নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ উঠেছে দু’টি প্রকল্পে খরচ হয়েছে মাত্র ৪ লাখ টাকা। স্কেভেটর মেশিন দিয়ে পুকুরপাড়ের ঢাল ছেটে পাড় বাঁধা হয়েছে। বাগমারা পুকুর খননে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে ১’শ ঘন্টা মাটি কাটা হয় এবং হায়াতপুর পুকুর খননে মাত্র ৩০ ঘন্টা মাটি কাটা হয়েছে। দু’টি পুুকুরের তলায় কোন মাটি কাটাকাটির কাজ হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্কেভেটর চালক জসীম উদ্দীন জানান, প্রতিঘন্টা ২ হাজার টাকার চুক্তিতে বাগমারা পুকুর খননে ১শ’ ঘন্টা মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে। অপরটি হায়াতপুর পুকুর খনন কাজে প্রতি ঘন্টা ২৫’শ টাকা চুক্তিতে ৩৫ ঘন্টা মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে বলে স্কেভেটর চালক উজ্জ্বল জানিয়েছেন।
পুকুর পাড়ের মাটি সমান করতে বাগামারা পুকুরে দৈনিক ৫ জন শ্রমিক ১৬ দিন এবং অপরটিতে সমান সংখ্যক শ্রমিক ৫ দিন কাজ করেছেন। সিডিউল অনুযায়ী পুকুর পাড় থেকে ৫ ফুুট ঢালুর পর আরও ৫ ফুট ঢালুর কাজ করে ৮ ফুট চওড়ার পাড় বাধানোসহ পুকুরের তলায় গড়ে ২ থেকে ৬ ফুট গভীর করার কথা থাকলেও সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। কিন্তু পুকুরের পাড় বাধানোর কাজেও শুভংকরের ফাঁকি দেয়া হয়েছে। পুকুর পাড়ের ব্যক্তি মালিকানা জমিতে মাটি ছিটিয়ে পাড় বাঁধানো দেখানো হয়েছে। এ জন্য শাহাজানহান নামের এক জমি মালিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
শাহাজাহান জানান, পুকুর খননের নামে মহা লুটপাটের আয়োজন করা হয়েছে। তার নিজ জমির উপর মাটি ছিটিয়ে পাড় বাঁধা দেখানো হয়েছে। যা একটু বৃষ্টি হলেই বোঝা যাবে।
শ্রমিক আনোয়ার হোসেন, ফারুক হোসেন, শিমুল হোসেন, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ৩শ’ টাকা দিন চুক্তিতে বাগমারা পুকুরে ২২ দিন এবং অপরটিতে মাত্র ৫ দিন কাজ করে শেষ করা হয়েছে।
এ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর এস্টিমেড অনুযায়ী কাজ হয়েছে।
এই প্রকল্পের প্রকৌশলী গৌতম সাহা জানান, পুকুর পুনঃখনন কাজের চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়নি। সামান্য ত্রুটি আছে যা ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।
হায়াতপুর পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের ঠিকাদার আবুল ইসলাম জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করা হয়েছে, এখন বিল উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে। বাগমারা পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের দলনেতা জামাই আইনুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হয়েছে।