মণিরামপুরে জমি লিখে না দেয়ায় মাকে মারধর করে পুত্র-পুত্রবধূ!

12

>>স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন প্রবাসীপুত্র
মণিরামপুর প্রতিনিধি:যশোরের মণিরামপুরে জমি লিখে না দেয়ায় বড় ছেলে, ছেলের বউ এবং মেয়ের বিরুদ্ধে মাকে মারধর করে ঘর থেকে নামিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামান্য ত্রুটি পেলেই তারা বৃদ্ধা মাকে মারধর করেন। নির্যাতিত এই হতভাগী মায়ের নাম জোহরা বেগম। তিনি মণিরামপুর পৌর এলাকার বিজয়রামপুর গ্রামের মৃত আছির উদ্দীনের স্ত্রী।
অভিযোগে জানা গেছে, গেলো রোজার সময় বেদম মারপিট করার এক পর্যায়ে জোহরা বেগম গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ওই সময় জোহরা বেগম বাদী হয়ে বড় ছেলে আদম আলী, ছেলের বউ সুমাইয়া ইয়াসমীন কান্তা ও মেয়ে রিজিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মণিরামপুর থানার ওসিকে মামলাটি সরাসরি এজহারভুক্তির নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী জোহরা বেগম জানান, ‘ডিমচুরি কিংবা ঠুনকো (সামান্য) অজুহাতের ধুয়ো তুলেই ওরা আমারে চড়-থাপ্পড় মেরে ঘর থেকে নামাই দেই’। গেলো ১২ রোজার দিন বড় ছেলে আদম আলী, মেয়ে রিজিয়া খাতুন ও ছেলে বউ সুমাইয়া ইয়াসমিন কান্তি মিলে ‘জেমসেমনি’ (এলোপাতাড়ি) ম্যারে আমারে মাথা ফাঠাই দেই। এদিন হাটু ক্যাটে যাওয়াসহ কপাল ফেটে যায়। পাড়ার লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করে’।
এসময় তিনি দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলেছিলেন আর শাড়ীর আঁচলে চোখের পানি মুছছিলেন। এখন তারা বাড়ির জমি লিখে নিতে চাই। না দেয়াতে তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমানে তার জমিতে লাগানো বড় গাছ কেটে বিক্রির পায়তারা করছে। বাঁধা দিলে আবারো তারার মারধর করবে বলে হুমকি দিচ্ছে।
মাকে মারপিটের খরব জানতে পারেন ব্রুনাই প্রবাসী মেঝ ছেলে আবু দাউদ ও ছোট ছেলে সিরাজুল ইসলাম। তারা মাকে মারধরের কারণ জানতে চান বড় ভাই ও বোনের কাছে।
প্রবাসী মেঝ ছেলে আবু দাউদ মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, তার মায়ের ওপর নির্যাতনকারি বড় ভাই, ভাবি ও বোনের বিচারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।
জোহরা বেগমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহনাজ আক্তার জানান, আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মারুফ হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে সরাসরি এজাহারভুক্ত করতে মণিরামপুর থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই হাসান জানান, আদালতের নির্দেশে মণিরামপুর থানা মামলাটি এজাহারভুক্ত করে। যার নম্বর-১৫ এবং তারিখ ১৮-০৫-২১ ইং। মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে আছেন।