মণিরামপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি খ্যাত রওশন আলী আর নেই

14

মণিরামপুর প্রতিনিধি:মণিরামপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি খ্যাত আওয়ামী লীগের দুর্দিনের দল পাগল রওশন আলী সরদার (৮৫) আর নেই ((ইন্না—রাজেউন)। তিনি মঙ্গলবার রাত ৮.২০ মিনিটে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি সর্বশেষ মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ছিলেন।
মরহুম রওশন আলী সরদার উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও তিনি ছিলেন দলের নিবেদিত দল পাগল কর্মী। ৯০’র দশকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন দলের অনুপ্রেরণার প্রতিক। এজন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের কাছে তিনি ছিলেন আস্থাভাজন। দলের দুঃসময়ে দলীয় কর্মসূচিতে তার অংশ গ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিভাবে আন্দোলন করে দলকে সুসংগঠিত করা যায়, এনিয়ে তিনি সে সময়ের আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাতিয়ে রাখতেন। ওই সময় রওশন আলী বক্তব্য দিয়ে ছাত্রলীগসহ দলের তরুণ সমাজকে মাতিয়ে রাখতেন। বয়োবৃদ্ধ হলেও তাকে এ কারণে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। যা দলটির সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করে। সবাই তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে সম্বোধনসহ অতি সম্মানের পাত্র হয়ে উঠেন।
বুধবার মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠানে এসব স্মৃতি কথা তুলে ধরেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে বুধবার সকাল ১১টার সময় স্থানীয় হালসা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কাশিপুর পীরবাড়ির পীরজাদা মাও. হাফিজুর রহমানের ইমামতিতে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিাত হয়। উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র আলহাজ্ব কাজী মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ খান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, বাবলুর রহমান বাবলু স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুচ আলী, ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফজলুর রহমান প্রমুখ।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. বশির আহম্মেদ খান বলেন, তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে দলীয় কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণার কারনে রওশন আলী চাচা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে খ্যাতি পান। যা ব্যাপকভাবে দলের সর্বমহলে পরিচিতি পান।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সন্দীপ ঘোষ বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের সময় প্রতি হাটবারে (শনিবার ও মঙ্গলবার) রওশন আলী চাচা ধান বিক্রি করে তাদের রসগোল্লা খাওয়াতেন এবং বলতেন গায়ে জোর বানিয়ে মিছিল করো।
মরহুমের বড় ছেলে মণিরামপুর মহিলা কলেজের সহযোগি অধ্যাপক ও প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীন বলেন, তার বাবা সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেছেন। তারপরও দলমত নির্বিশেষে সবার সাথে বাবার সুসম্পর্ক ছিলো। তার বাবার জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।