মণিরামপুরে গরুর খুরারোগের প্রাদুর্ভাব:দিশেহারা খামারিরা

9

মণিরামপুর প্রতিনিধি:মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ার বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে গরুর খুরা রোগ। এরইমধ্যে আক্রান্ত হয়ে অনেক গরু মারা গেছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে হাতুড়ে ডাক্তার ও কবিরাজের বাড়িতে ভিড় করছেন গরুর খামারিরা। এই সুযোগে খামারিদের কাছ থেকে ডাক্তার ও কবিরাজরা হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানাযায়, মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া, জয়পুর, হুরগাতি, কর্ন্দপপুর ও দেলোয়াবড়ি গ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে গরুর খুরা রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক গরুর মৃত্য হয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের খামারী মালিকরা অনেক বার জানানোর পরও তারা খুরা রোগের কোন চিকিৎসা এবং গ্রাম অঞ্চলে খামারিদের কোন পরামর্শ পর্যন্ত দিচ্ছে না। তারা বলে খুরা রোগের কোন ওষুধ নেই। ভিটামিন বড়ি খাওয়ানোর পাশাপাশি তেলের সাথে ন্যাপথোল মিশায়ে গরুর খুরির মধ্যে পরিস্কার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
উপজেলার সব থেকে বড় খামারি হুরগাতী গ্রামের আসমত আলীর। এখানে ছোট বড় ৩৫টি গরু খোরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে। একই গ্রামের শাহাজান আলীর ৬টি গরু, ওলিয়ার রহমানের ৬টি গরু, কবির হোসেনের ১৫টি গরু, আবু তাহের ১টি গরু, কুদ্দুস আলীর ৫টি গরু আক্রান্ত ও ১টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। দেলোয়াবাড়ি গ্রামের আনছার আলীর ৬টি গরু, রফিকুল ইসলামের ৩টি গরু, আবুল হোসেনের ৪টি গরু, আতিয়ার রহমানের ২টি গরু, মতিয়ার রহমানের ৪টি গরু, আব্দুল হকের ৩টি গরু, আবু সাইদের ২টি গরু, জয়পুর গ্রামের তবিবুর রহমানের ৩টি গরু, হাবিবুর রহমানের ৪টি গরু আক্রান্ত ও ১টি গরু মৃত্যু। হাবিবুর রহমান, শাহাজান আলীসহ অনেকেই জানান, উপজেলা পশু হাসপাতালে অনেক বার ওষুধ আনতে গিয়েছি কিন্তু কোন ওষুধ দেয়নি। হাতে এক গাদা ওষুধ লিখে দিয়েছেন। তারা আরো বলেন, গরুর খুরা রোগের কোন ওষুধ তৈরি করেনি। গরুর খামারি শাহাজান আরো জানান, গরুর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে জয়পুর গ্রামের গরুর ডাক্তার আবু দাউদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকার ওষুধ খাওয়ানোর পরও কোন লাভ হয়নি এবং কবিরাজ যে যার কথা বলছে তার কাছে ছুটে যাচ্ছি। ধোনার গ্রামের গরুর কবিরাজ শহিদুল মোড়ল ১০১ টাকার বিনিময়ে লবন, হলুদ, তেলসহ হরেক রকম পণ্য পড়ে দিচ্ছেন (ফুঁ-ফা)। প্রতিদিন সকালে তার বাড়িতে গরুর খামারিরা ভিড় করতে দেখা যায়। ব্র‏‏হ্মনডাঙ্গা গ্রামের কবিরাজ রসুল হোসেন গরুর খুরা রোগের জন্য পাট পড়ে দিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে খামারিরা জানান। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা গরু নিয়ে কত কষ্টের মধ্যে আছে তা না দেখলে বুঝা যাবে না।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডঃ মোঃ আবুজার সিদ্দিকি জানান, গরুর খোরা রোগ শুধু মণিরামপুরে নয়, সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান খুরা রোগ অনেকটা কম হয়ে গেছে। এটা একটি ভাইরাজ জনিত রোগ। আমাদের হসপিটালে কেউ গরু নিয়ে আসলে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। আর গরু না নিয়ে আসলে ওষুধ লিখে দিয়ে থাকি। আমরা গ্রাম অঞ্চলে মনিটরিং করছি।