মণিরামপুরে কৃষক পরিমলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ

RanaRana
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:38 AM, 21 September 2021

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা :  যশোরের মণিরামপুরের শ্যামনগর গ্রামের রাজবংশী পাড়ার পরিমল বিশ্বাস (৬০) নামে এক কৃষককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে বিষাক্ত চেতনানাশক পদার্থ খাওয়ায়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার পর এমন অভিযোগের গুঞ্জন ফাঁস হতে চলেছে।
তার পরিবারের ও এলাকাবাসীর দাবী, পরিমলের মৃত্যু ঘটনা কোন স্বাভাবিক মৃত্যু না। সুদে টাকার জন্য ঘটনারদিন পরিকল্পিতভাবে সুদখোররা এক লক্ষ টাকা কেড়ে নিয়ে তাকে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানোর কারনে তার মৃত্যু হয়েছে। যা মৃত্যুর আগে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় পরিমল পুলিশের কাছে মৌখিক জবানবন্দী দিয়ে সবকিছু পরিস্কার করে গেছে। কিন্তু পুলিশ তা আমলে না নিয়ে জড়িত সুদখোরদের রক্ষা করতে উঠে পড়ে লেগেছে বলে তাদের অভিযোগ।
সরজমিনে গেলে নিহতের স্বজনরা ও এলাকাবাসীরা জানান, নিহত পরিমল উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের পঞ্চানন বিশ্বাসের ছেলে। গত শনিবার বিকেলে পরিমল বাড়ী থেকে চিনাটোলা বাজারে আসেন সমাধান এনজিও’র এক লাখ টাকা ঋণের কিস্তি শোধ করতে। ওইদিন দিবাগত রাতে পরিমল আর বাড়ী ফেরেনি।
পরেরদিন ভোরে পথচারীদের খবরে স্বজনরা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় সৈয়দ মাহমুদপুর জনোর মিলের চার রাস্তা মোড় থেকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর পরিমলের স্বজনরা ঘটনাটি পুলিশকে জানালে হাসপাতালে আসেন এস আই জিয়াউর হক। সেখানে এস আই জিয়াউর হকের কাছে পরিমল জবানবন্দী দেন একই গ্রামের রুহুল আমিন, জহুরুল ইসলাম, আজিজুর, বাবলু, আলমগীরসহ কয়েকজন তার কাছে পাওনা সুদে টাকার জন্য প্রতিনিয়ত খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন রাত্রে জনোর মোড়ের পাশে রাস্তায় রুহুল আমিন ও জহুরুল তার পথরোধ করে। এ সময় তারা তার কাছে থাকা ১ লক্ষ টাকা জোরপূর্বক মারপিট করে কেড়ে নেয়। তাদের চিনে ফেলার কারনে এরপর তারা জোরপূর্বক পরিমলের মুখ চেপে ধরে বিষাক্ত পদার্থ জাতীয় কিছু খাওয়ায়ে অচেতন করে ফেলে রেখে চলে যায় বলে তার স্ত্রী অঞ্জলী বিশ্বাস ও ছোট ছেলে সুবীর বিশ্বাসের দাবী।
ওইদিন মৌখিক এ অভিযোগ হাসপাতালে পরিমলের কাছ থেকে জানার পর এস আই জিয়াউর হক উল্লেখিতদের বাড়িতে তদন্তে এসে ঘটনার সত্যতা পাই বলে তার স্বজনদের দাবী। এরপর পরিমল হাসপাতালে ৩দিন চিকিৎসান্তে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পুনরায় পরিমল আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরেরদিন শুক্রবার ভোরে তিনি হাসপাতালেই মারা যান। মৃত্যুর পর পরিমলের মরদেহটি স্বজনরা হাসপাতাল থেকে বাড়ীতে নিয়ে যান। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ওইদিন দুপুরে পরিমলের মরদেহ তার বাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দেয় বলে এলাকাবাসীরা দাবী করেছে। অভিযোগ উঠেছে ওইদিন রাতে এস আই জিয়াউল হক গোঁপন একটি স্থানে জড়িত রুহুল ও জহরুলসহ সুদখোরদের মোবাইল করে ডেকে নিয়ে যান শলা পরামর্শ করতে। এরপর নামস্তে পরিমলের বড় ছেলে প্রবীর বিশ্বাসকে বাদী বানিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পুলিশের প্রতি পরিমলের মৃত্যু কি আত্মহত্যা নাকী হত্যা এমন দাবী করেছে এলাকাবাসীরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ আহম্মেদ জানান, পরিমলের মৃত্যু স্বাভাবিক না, তার কাছে মৃত্যুর বিষয়টি এখন রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
দূর্বাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মাযাহারুল আনোয়ার জানান, পরিমলের মৃত্যু রহস্যঘেরা তা সকলে জানে, পুলিশ যদি পক্ষপাত না করে সুষ্ঠ তদন্ত করলে মৃত্যুর আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে।
এস আই জিয়াউর হক সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর পরিমলের মৃত্যুর ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন। তারপর তার গায়ে কিছু আঘাতের চিহ্ন ও শরীল থেকে পায়খানা বের হওয়ার বিষয়টি তারা সন্দেহ জনক মনে করছে বলে দাবী করেন।

আপনার মতামত লিখুন :