মণিরামপুরে করোনা রোগীর একমাত্র ভরসা গ্রাম্য ডাক্তার!

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:57 PM, 11 July 2021

>>করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ও উপসর্গে উপজেলায় ৫৮ জনের মৃত্যু
>>হাসপাতালে ভর্তি না নেয়ার অভিযোগ-ভুক্তভোগী মহলের (৩)
>>সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্টার প্লান করে এগুচ্ছেন ডাক্তার রিফাত
মণিরামপুর প্রতিনিধি:করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে যশোরের মণিরামপুরে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই বাড়িতে মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যাও দুইশ’র কোটা পার হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশিরভাগ করোনা রোগী ভর্তি নেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ভর্তি নেয়া হলেও নার্স কিংবা চিকিৎসক করোনা রোগীর ধারের কাছেও যান না। দূর থেকেই চলে চিকিৎসা সেবা। যেকারণে হাসপাতালে দুই-একদিন থাকার পর রোগী ফিরে যান বাড়িতে। তাদের মধ্যে কেউ সুস্থ হয়েছেন কেউ হারিয়েছেন প্রাণ।
কোয়াক (গ্রাম্য) চিকিৎসরাই জ্বর-সর্দিসহ করোনা রোগীদের শেষ ভরসার স্থল হয়ে উঠেছেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ থাকলে কোয়াক চিকিৎসকরাই করোনা রোগীর চিকিৎসা দিয়ে প্রাথমিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারতেন-এমন দাবি তাদের।
আক্রান্ত ও মৃত্যু’র সংখ্যা কমিয়ে আনতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তরুণ চিকিৎসক ডাঃ মোসাব্বিরুল ইসলাম মাস্টার প্লান করেছেন। তারমতে উপজেলায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবির সমন্বয়ে গঠিত টিমের প্রতি জনের কাছে পালস্ অক্সিমিটিার ও পৌরসভাসহ ১৭ ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার নিশ্চিত করা গেলে করোনা রোগীর নিয়মতি নজরদারি করা সম্ভব। এরফলে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে। এতে করে ঘরে বসেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে করোনা রোগী। ইতোমধ্যে তিনি কাজও শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার সমিতির সেক্রেটারি বাবর আলী জানান, তার সমিতিতে ৪৮০ জন গ্রাম ডাক্তার রয়েছেন। প্রতি গ্রামে প্রতিদিনি গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন জ্বর-সর্দি, গলা ব্যাথাসহ করোনা উপসর্গ রোগী চিকিৎসা নেন। কিন্তু পালস্ অক্সিমিটার না থাকায় রোগীর অক্সিজেন স্তরের মাত্রা মাপা সম্ভব হয় না। এগুলো সরবরাহসহ গ্রাম ডাক্তারের প্রশিক্ষণ দেয়া হলে করোনা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা তারা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, তাদের কাছে আসা রোগী হাসপাতালে যেতে চান না। সেখানে গেলে চিকিৎকসহ নার্সরা রোগীদের কাছে আসেন না। যে কারণে রোগী ভয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। তার কথার অনেকটাই সত্যতা মিলেছে।
গত ২ জুলাই শ্বাসকস্ট নিয়ে চা দোকানি নজরুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। স্বজনদের অভিযোগ তাকে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার পরদিন তার মৃত্যু হয়। গত ১০ এপ্রিল শ্বসকস্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আসাদুজ্জামান নামের এক স্কুল শিক্ষক। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ভর্তি করার পর হাসপাতালে ৩ দিন অবস্থান করলেও কোন নার্স কিংবা ডাক্তার তার কাছে আসেননি। দূর থেকে তার চিকিৎসা করা হয়। এ অবস্থায় তার স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে এসে চিকিৎসা করান। এখন তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে উপজেলায় করোনা আক্রন্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরনকারিদের দাফনসহ অক্সিজেন সেবা দিয়ে চলেছে তাকওয়া ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবি টিম। এছাড়া উপজেলা বিএনপি, উপজেলা ছাত্রলীগ, বন্ধন নামের সামাজিক সংস্থা এ ধরণের কার্যক্রম শুরু করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে করোনায় মৃত্যুবরনকারি ও আক্রান্তদের বাড়িতে নিজে গিয়ে নিয়মতি খোঁজখবর নেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম।
তাকওয়া ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য আশরাফুল আনওয়ার ইয়াসীন জানান, এবার এখন পর্যন্ত তারা ১৮ জন করোনা রোগীর দাফন কাজ করেছেন। এছাড়া ২৭ জনের অক্সিজেন সেবা দিয়েছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, তিনি উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে করোনায় মৃত্যুবরনকারি ৫৮ জন নারী-পুরুষের বাড়িতে নিজে গেছেন এবং ৪৩ জন আক্রান্তের বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না, এটা ঠিক না। তবে, অক্সিজেনের স্তর ৭০-এর নীচে আসা কোন রোগী হাসপাতালে আসলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্রে পাঠানো হয়।

 

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :