মণিরামপুরে করোনায় মৃত্যু মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে

12

মণিরামপুর প্রতিনিধি:মণিরামপুরে আশংকাজনকভাবে করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মৃত্যু মিছিলও লম্বা হচ্ছে। গত ৪ দিনের ব্যবধানে এক মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ৮ জনের মৃত্যু’র খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স, সেটিতে রোগী বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। হাসপাতালে রোগী নেয়া হলে সাথে সাথে ওই রোগীকে যশোর ২শ’৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। আরও খবর>>সাতক্ষীরায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু

এছাড়া দুই স্কুল শিক্ষকসহ ৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে। উপজেলায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ৭ দিনের কঠোর লকডাইনের ঘোষণা দিয়েছে। লকডাউনের বিধি নিষেধ মানতে প্রশাসনের পক্ষ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করতে দেখা গেছে। লকডাউনের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে গত বুধবার সকালে দূর্গাপর গ্রামের মাও. শারাফাত ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৬৫), মঙ্গলবার মণিরামপুর গ্রামে ডাঃ হরেণ ৬৪), জয়পুর গ্রামে নূর ইসলামের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫), লাউকুন্ডা দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী প্রধান জাকির হোসেন, সোমবার রাতে কামালপুর গ্রামের আরশাদ আলীর পুত্র রবিউল ইসলাম (৪৫), একই দিন দুপুরে পৌর এলাকার হাকোবা গ্রামের হাসেম মহলদার (৭৪) ও পারখাজুরা গ্রামের আবু বক্কর (৬২) যশোর করোনা ইউনিটে চিৎিসাধীন অবস্থায় এবং গত শনিবার উপজেলার চাকলা গ্রামের জেসমিন আরা বিউটি (৫৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) অনুপ কুমার বসু বলেন, বুধবার ১২ জনের মধ্যে ৬ জনসহ বুধবার পর্যন্ত উপজেলায় করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালসহ বাড়িতে ৮২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে গত দুইদিনে প্যারাসিটামল গ্রুপের নাপা ঔষধ বাজারে মিলছে না। ঔষধ ব্যবসায়ী হক জানান, গত দুইদিন হঠাৎ করে এই ঔষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স, সেটি করোনা রোগী বহন করা হলে সাধারণ রোগী ওই এ্যাম্বুলেন্সে যেতে চাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে লকডাউনের বিধি নিষেধ মানতে বুধবার দুপুর ১২ টার পর থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়।