মণিরামপুরে অর্ধশত নারী-পুরুষ ‘পেস ক্যাভাস’ রোগে আক্রান্ত

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:37 PM, 05 July 2021

মণিরামপুর প্রতিনিধি:প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ‘পেস ক্যাভাস’ নামে বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। পেস ক্যাভাস রোগ অর্থ ‘ফাঁকা পা’ বা উচু খিলানযুক্ত পা বলা হয়। অর্থাৎ পায়ের পাতার পশ্চাৎ অংশের পেশী সংকুচিত হয়ে উঁচু হয়ে যায় এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পায়ের নলা শুকিয়ে আসে। এসব আক্রান্তরা একই বংশের সদস্য।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার শলুয়া গ্রামের মৃত বদর উদ্দীনের পরিবারের প্রায় সবাই এ রোগে আক্রান্ত। মণিরামপুর পৌরশহরে অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডাঃ নজরুল ইসলামের রোকেয়া ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা এই রোগে আক্রান্ত কলেজ ছাত্র গোলাম রসুলের কাছ থেকে এসব তথ্য উঠে আসে। তিনি তার ভগ্নিপতি পৌর এলাকার রাসেল হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে এই ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাসেল হোসেন জানান, তার মামা শ্বশুরের বংশের প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত। গোলাম রসুলের বাবা শরিফুল ইসলাম জানান, তার দাদা মৃত বদর উদ্দীনরা ছিলেন ৫ ভাই। অন্যদের না হলেও বদর উদ্দীন এ রোগে আক্রান্ত হন। মৃত বদর উদ্দীনের ৩ ছেলে তাহাজ্জুত হোসেন, মোন্তাজ হোসেন,আব্দুস সাত্তার এবং এক বোন হামেদা বেগমের মধ্যে মোন্তাজের ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে এ রোগের লক্ষণ এখনো দেখা না দিলেও তাহাজ্জুত হোসেনের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে রবিউল ইসলাম আক্রান্ত হন। রবিউল ইসলামের ছেলে মিরাজুল ইসলামও এই রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আব্দুস সাত্তারের বংশধর। আব্দুস সাত্তারের ৩ ছেলে শরিফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও জাদিুল ইসলাম এবং ২ মেয়ে শিউলী ও হালিমা এ রোগে আক্রান্ত। শরিফুল ইসলামের কলেজ পড়–য়া ছেলে গোলাম রসুল ও ৩য় শ্রেণিতে পড়–য়া আরাফাত হোসেন, জাহাঙ্গীরের দুই ছেলে ফয়সাল ও মামুন হোসেন ও জাহিদুল ইসলামের ছেলে মিকাইলও এ রোগে আক্রান্ত। শরিফুলের দুই বোনের মধ্যে হালিমাকে বিয়ে দেওয়ার ৩ বছর পর এ রোগে আক্রান্ত হন। হালিমার মেয়ে বৃষ্টি আক্রান্ত না হলেও ছেলে আল-আমিন উজ্জ্বল আক্রান্ত। শরিফুল ইসলামের বোন হালিমার এছাড়া শরিফুল ইসলামের ফুফু মৃত হামেদা বেগমের দুই মেয়ে তারাবান ও আছিয়া আক্রান্ত। আচিয়ার মেয়ে চানভানুর মেয়ে ফারজানা আক্রান্ত হলে সম্প্রতি রোকেয়া ক্লিনিক হতে ডাঃ নজরুল ইসলাম পায়ে অস্ত্রাপাচার করেন। এখন তিনি ভাল বলে জানান শরিফুল। এর দেখাদেখি শরিফুল ইসলাম তার ছেলে গোলাম রসুলের এ পায়ে অস্ত্রপাচার করেন ডাঃ নজরুল ইসলাম। চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল বলে তাদের পক্ষে চিকিৎসা করা দুরুহ হয়ে উঠছে। শরিফুল ইসলাম শেষ সম্বল এক খন্ড জমি বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন।
কিভাবে আক্রান্ত হন এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম রসুল বলেন, তিনি ছোট বেলায় বন্ধুদের সাথে খেলেছেন। হঠাৎ একদিন দুই পায়ে চরম ব্যথা অনুভব করেন। এরপর হাটতে গেলে পেশী সংকুচিত হয়ে যেতে থাকে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ধীরে ধীরে দুই পায়ের পাতার পশ্চাৎ অংশ সংকুচিত হয়ে উচু হয়ে হতে থাকে। সেই সাথে পায়ের নলা শুকিয়ে চিকন হতে থাকে। বংশের যারাই এই রোগে আক্রান্ত তাদের শুরুটা এভাবেই বলে জানালেন তিনি।
‘পেস ক্যাভাস’ পেস ক্যাভোভারাস, পেস ক্যালকানোওভাল এবং খাঁটি পেস ক্যাভাস এই তিন ধরনের হয়। প্রধানতঃ তিনটি গ্রুপে অস্ত্রাপাচার হয়। এগুলো হলো নরম টিস্যু পদ্ধতি, অস্টিওঁমি এবং হাড়-স্থিতিশীল পদ্ধতি।
ডঃ নজরুর ইসলামের ছেলে ডাঃ মোসাব্বিরুল ইসলাম রিফাত জানান, তার বাবার তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি এ রোগে আক্রান্ত ফারজানা নামের এক মেয়ের অস্ত্রাপাচা হয়। তিনিও বাবাকে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে গোলাম রসুল নামে আরও একজনের এক পায়ে অস্ত্রাপাচার হয়।
তিনি আরও জানান, পায়ের কার্ভেচার বেশি হওয়ায় এই রোগ হয়। এ জন্য অস্ত্রাপচারের মাধ্যমে টার্সাল হাড় কেটে আ্যাকিলিস টেন্ডন লম্বা করা হয়। এতে এই রোগে আক্রান্ত রোগী ধীরে ধীরে ভাল হয়ে ওঠেন-জানান তিনি।

 

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :