ভয়ঙ্কর পুলিশি নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু রাজিব কর রাজু:প্রশাসন নীরব!

1759

Last Updated on

মিন্টু দত্ত,চট্টগ্রাম ব্যুরো:ভয়ঙ্কর পুলিশি নির্যাতনের শিকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরীহ রাজিব কর রাজু। নির্মম নির্যাতনে কেবল কর্মক্ষমতা হারান নি, সর্বশান্ত করে তার স্বর্ণ ব্যবসার পুঁজি ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে কতিপয় পুলিশ সদস্য, যার বর্তমান বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। নির্যাতনের সময়কালে উল্টো ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে পুলিশ, এক পর্যায়ে অনেক অনুনয় বিনয় ও দেনদরবার করে ২ লাখ টাকা নগদ দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পেয়েছে!(ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা লেনদেনের ফটোকপি নিউজে দেওয়া হয়েছে)

প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন পুলিশের তৎকালীন এসআই মিজান, এ এস আই ফরিদ মিয়া ও এসআই জলিলের নেতৃত্বে। এই ঘটনাটি তখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ায় আসে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি গোচর হয়। তখন থানার এই কর্মকর্তাদের কোতোয়ালি থানা থেকে বদলি করা হয়। ভুক্তভোগী রাজীব কর রাজু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সহ বিভিন্ন জায়গায় বিচারের জন্য গিয়েছে। সবশেষে অভিযুক্তরা ৪ লাখ টাকা ফেরত দিবে বলে তারা স্বীকার করেছে কিন্তু সেই টাকাও আজ পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারটি পায়নি!

ঘটনার সত্যতা ও আরো বিস্তারিত জানতে নিম্নোক্ত ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। পিতাঃ কালিপদ কর, ভুক্তভোগীঃ রাজিব কর রাজু, ফোন নাম্বারঃ 01942617235, গ্রামঃ চৈনপুর, ইউনিয়নঃ টনকী, থানাঃ মুরাদনগর, জেলাঃ কুমিল্লা।

এই বিষয়ে আলাপ কালে রাজীব কর রাজু প্রতিবেদক কে জানান, বর্তমানে একমাত্র দুধের  বাচ্চার দুধ কিনে আনবার সার্মথ্য তার নেই সর্বস্ব হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার বিবরণ জানালেন এভাবে, “আমি এক জন ফেরিওলার মত মানুষ, ঢাকা হতে কিছু বানানো গহনা কিনে মফসলে বিক্রি করে বাবা-মা, স্ত্রী, নিয়ে জীবনযাপন করি।” বিগত ১০/০২/১৯ তারিখ দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা কোতোয়ালি থানাধীন ৩ পুলিশ কর্মকর্তা (১)এ এস আই মিজান (২)এ এস আই ফরিদ ভূইয়া  (৩)এস আই জলিল, আমার বাসার কাঠের সিলিং ভেঙে ঢুকে পড়ে, বিনা ওয়ারেন্ট বা বিনা অভিযোগে আমায় হাত কড়া পরিয়ে আমার বাসা হতে ২৬, ভরি সাড়ে ১১ আনা স্বর্ণের গয়না, আমার মায়ের চোখ অপারেশনের জন্য রাখা ৪১,৩০০ টাকা সহ আমায় থানায় নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়, আমাকে কোটে চালান করতে বলায় আরো বেপরোয়া নির্মম নির্যাতন শুরু করে, এমন কি আমার হাতের নখ ও তুলে ফেলে, আমি বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেললে, ভোর ৫ টার দিকে আমায় মিডফুড হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ২টা ইনজেকশন করে আবার থানায় আনা হয়, এর পর সকাল ৯ টার দিকে থানার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে পুঃন পুঃন বার বেদম নির্যাতন চালায়, আমাকে বলা হয় যদি তুই মুক্তি চাস তবে তোর বাড়ি হতে আরো ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বল, না হয় তোকে কোন পেনডিং মামলা বা মাদকের মামলা দেখিয়ে গুলি করে মেরে ফেলবো, আর একটা সত্য আছে কোন দিন মুখ খুলতে পারবি না, আর ঢাকায় ও আসতে পারবি না, আমি উত্তরে বলি যে আমার যা যা ছিলো সবিত আপনারা নিয়ে গেছেন আমি আর টাকা পাবো কোথায়? উত্তরে ওই নির্যাতন কারীরা বলে-কোথায় পাবি জানি না তবে দিলে জানে বাঁচবি , পরে এস আই মিজান তার থানার ড্রয়ার খুলে দেখিয়ে বলেন যে দেখ এগুলা চিনিস কি না, আমি বলি কি করে চিনবো, উত্তরে বলে যদি আজ রাত ৮ টার মধ্যে টাকা না পাই তা হলে তোকে গুলি করে মেরে ফেলব, বলব যে তুই মাদক ব্যবসায়ী , তোর কাছে এ গুলা ছিলো,ভয় পেয়ে আমি আমার দেশের বাড়িতে যোগাযোগ করলে আমার পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়ে। আমার পরিবার অতি কষ্টে ২ লাখ টাকা জোগাড় করলে আমি এস আই মিজান ও এস আই জলিলকে বলি, ওরা বলেন হবে না আমি তাদের পায়ে ধরে মিনতি করলে তারা আমার বুকে লাথি মারতে থাকে, আর বলে,যদি তোকে জীবিত নিতে চায় তা হলে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে টাকা নিয়ে থানায় আসতে বলবি, আমার বড় ভাই ও আমার বড় ভাইয়ের শ্যালক টাকা নিয়ে আসলে আমায় মুক্তি দেয়, মুক্তি দেয়ার সময় আমায় সাদা কাগজে নাম ঠিকানা মোবাইল নাম্বার লিখে রাখে, আরো বলে দেন যে তোরে আরো ৩ দিন ঢাকায় থাকতে হবে, আর মনে রাখিস যে তুই যদি কোন দিন মুখ খুলিশ তবে সেই দিনই হবে তর শেষ দিন, তার পর থেকে আমি বিচারের জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই, এমন কি আমি হোম মিনিস্টারের সরকারি বাস ভবনে গিয়ে বিবরণী দিয়ে একটা চিঠি দিয়ে আসি,ও নির্যাতনের কিছু ছবি দেই এবং আপনার ঠিকানায় একটা বিবরণী লিখে চিঠি পাঠায়, গত ৩০/০৫/১৯ তারিখে জানি না হতভাগার চিঠি খানা আপনার হাতে পরেছে কি না, তার পর আমি দৈনিক গনজাগরন ও অপরাধের খোজে উনাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ঘটনার আলামত সংরক্ষণ করে এবং থানায় গিয়ে জিজ্ঞেস করলে ওসি ঘটনা স্বীকার করলে, মিডিয়াদের ওসি বলেন যে রাজিব কে নিয়ে আসেন, আমি ওনাদের সাথে গেলে আমার বিবরণী শোনেন ও দুঃখ প্রকাশ করেন ওসি।

ওসি তদন্ত বলেন যে ২/৩ দিনের মধ্যে আমরা বিচার করে তোমার ক্ষতি পুরন আদায় করে দিব, কিন্তু আজ অনেক দিন হলেও আমি আমার সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত এবং আমি মুখ খোলাতে আমার বাসার আশেপাশে গিয়ে ওই নির্যাতন কারিরা আমার ছবি বা আমায় মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছেন, মিডিয়ার মাধ্যমে আমি ডি এম পি হেডকোয়ার্টারে একটা লিখিত অভিযোগ দেই ও ডিসি লালবাগে অভিযোহ দেই কিন্তু আজও কোন বিচার পাইনি, এখন আমি আতংকে ঘুরে বেড়াই, কখন জানি আমায় মেরে ফেলা হয়, আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দয়া ভিক্ষা চান, এই ঘটনার সঠিক বিচার পাওয়ার অাশায়।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার এখনো সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের কারণে এই অমানবিক ন্যাক্কার জনক ঘটনাটি ঘঠছে সচেতন মহলের মত হল এই ঘটনাটির দ্রুত ও যথাযথ বিচারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ সহ ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতি মোচনে এগিয়ে আসা এবং অভিযুক্ত দের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আইনের শাসন সমুন্নত করা গেলে এই রুপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব হবে।