ভোমরা বন্দরে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে অচলাবস্থা:পণ্য খালাস বন্ধ

16

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:রন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের অনিয়মের কারণে বন্ধ হতে বসেছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর। পণ্য ওঠামানা করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের নিকট শ্রমিকদের ডাবল বিল দাবি করেছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা প্রত্যাখান করেছে। ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ফলে ভোমরা বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।

ইতিমধ্যে বন্দরে ৬শ’ ট্রাক আটকা পড়েছে। যার মধ্যে ৩শ’ ট্রাকে রয়েছে কাঁচামাল। এদিকে পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকার কারণে শতশত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এঘটনায় রোববার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোমরা স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, আমদানি ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান ।

জানাযায়, ১৯৯৬ সালে ভোমরা শুল্ক স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালের ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শ্যামনগরে জনসভায় ঘোষণা দেন ভোমরা পুর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৮মে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান ভোমরাকে পুর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর ঘোষণা দেন। এই স্থল বন্দরে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কাস্টমস ডিউটি বাবদ ১২শ’ কোটি টাকা উপার্জন করে প্রতি বছর। কিন্তু নানা অনিয়ম, দুনীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই বন্দরে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের অন্তঃনেই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন,বন্দরে পন্য খালাস করার জন্য সরকার একজন ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। বন্দর কতৃপক্ষ লেবার সরবরাহের জন্য টন প্রতি ৬৯.২০ টাকা হিসেবে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নিয়ে থাকেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের কোন লেবার সরবরাহ করে না। তারা অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। আর আমদানি কারকরা উপায় না পেয়ে ট্রাক প্রতি দুই হাজার টাকা দিয়ে বাইরে থেকে লেবার নিয়ে পণ্য খালাস করতে বাধ্য হচ্ছে। দেশের অন্য কোন বন্দরে দুইবার লেবার বিল পরিশোধ করতে হয় না। তারা দুই বার বিল পরিশোধ করবে না বলে সরকারের বিভিন্ন দফতর লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু বন্দরের চেয়ারম্যান ও উপপরিচালক তাদের নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য জোরপূর্বক এসব অনিয়ম তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে বলে তারা জানান।
বন্দর কর্তৃপক্ষের এই অনিয়মের প্রতিবাদে শনিবার থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। বন্দরে আটকা পড়েছে ৬শ’ পণ্যবাহী ট্রাক। যার মধ্যে ৩শ’ ট্রাকে রয়েছে কাঁচা মাল। ব্যবসায়ীরা লেবারদের কাজে না ডাকায় ৪টি শ্রমিক সংগঠনের শতশত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিমাতা সুলভ আচারণের কারণে এই বন্দর দিয়ে সব ধরণের পণ্য আমদানি রপ্তানি হয় না। দেশের অন্যান্য বন্দর ব্যবসায়ীদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। অনিয়মের কারণে ভারতের কোলকাতা থেকে সব চেয়ে নিকটবর্তী হলেও ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহার করছে না। এসময় তারা দাবি করেন দেশের সব স্থল বন্দরে একই নিয়ম করা হোক। ভোমরার মত সব বন্দর হোক দুনীতি মুক্ত স্থল বন্দর।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আমদানি ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান নাছিম, আবুল হোসেন, নাজমুল আলম প্রমুখ।
এবিষয়ে জানান জন্য ভোমরা স্থল বন্দরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলামের ফোনে (০১৭১৭-২২৮৩৮৯) একাধিক বার রিং দিলেও তিনি ফোন রিসিফ করেননি।