ভুয়া চেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা লোপাট

থানায় সাধারণ ডায়েরি, তদন্ত কমিটি গঠন

ইচক দুয়েন্দেইচক দুয়েন্দে
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:05 PM, 07 October 2021

চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা তুলে নিয়েছে প্রতারক চক্র। ভ্যাট বাবদ বোর্ড থেকে চেক ইস্যু করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৬ টাকা। কিন্তু তুলে নেওয়া হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। ৯টি চেকের মাধ্যমে ওই পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি ধরা পড়লে  শিক্ষা বোর্ডে তোলপাড় শুরু হয়।

জানা গেছে, বোর্ডের হিসাব শাখা থেকে চেক জালিয়াতি ধরা পড়লে তুলকালাম ঘটে যায়। ঘটনায় শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। প্রধান কলেজ পরিদর্শন কেএম রব্বানীকে প্রধান করে গঠন ৫ সদস্যর তদন্ত কমিটি হয়েছে।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের অডিট অফিসার আবদুস সালাম জানান, বিভিন্ন মালামাল ক্রয় বাবদ সরকারের ভ্যাটের ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে এসব মালামাল কেনা হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, যশোরের ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ৭টি ও শাহী লাল স্টোর নামে দুটি প্রতিষ্ঠান ৯টি চেকের মাধ্যমে বোর্ডের ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা তুলে নিয়েছে। চেকের মুড়ি বইয়ের সাথে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় গতকাল এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। ইস্যুকৃত চেকের অংকের সাথে মুড়ি বইয়ের চেকের অংকের মিল নেই।

শিক্ষাবোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী রেজা জানিয়েছেন, মালামাল কেনা হয় কার্যাদেশ অনুযায়ী। কিন্তু সোনালী ব্যাংক থেকে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে তাদের নথিতে কোন বিলভাউচার জমা নেই। ভেনার্স প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং আগেও কিছু মালামাল দিলেও শাহী লাল স্টোরের সাথে কোন লেনদেন হয়নি।

সোনালী ব্যাংক শিক্ষাবোর্ড শাখার ব্যবস্থাপক এসএম শাহিদুর রেজা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার ক্লিয়ারিং চেকের মাধ্যমে ঢাকার ফকিরাপুল ঠিকানার ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং এসব টাকা তুলে নিয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু জানান, শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান এই জালিয়াতির সাথে সরাসরি জড়িত। চেয়ারম্যান রাত পর্যন্ত ভেনার্স প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিকের সাথে সবসময় বসে থাকেন। সিসি ক্যামেরা দেখলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন জানান, প্রতিষ্ঠানের চেক প্রিন্টিং করা। হাতে লেখার সুযোগ নেই। জালিয়াতি করে ভুয়া চেকের মাধ্যমে এসব টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এটির ব্যাাপারে থানায় জিডি হয়েছে। ৫ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানি এই কমিটির প্রধান।

দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। রোববার সব নথি তলব করা হবে। জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।

 

 

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :