ভিকারুননিসা স্কুল অধ্যক্ষের অশ্লীল গালিগলাজ ও হুমকির ফোনালাপ ভাইরাল

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:09 AM, 27 July 2021

রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপীঠ ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুল এবং প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মোবাইল ফোনে অশ্লীল গালিগলাজ ও হুমকি ধামকির কলরেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও ভিএনএসসির অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মধ্যকার চার মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ধরে চলা ফোনালাপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছিলেন বিভিন্ন মহল।

ফাঁস হওয়া অডিওটি ভিএনএসসির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর চরমভাবে আঘাত হেনেছে-েএমনি মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এ বছরের প্রথম দিন যোগদান করেন। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেন না। কেউ যদি তাকে প্রতিষ্ঠানে আসার বিষয়ে অনুরোধ করেন, তিনি (কামরুন নাহার) সবাইকে দেখে নেয়ার হুমকি ধামকি দেন। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন- ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মন্ত্রী, সচিবালয় এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত তার পক্ষে আছে বলেও গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা দাবি করেন।

অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সুজন বলেন, যোগদানের পর থেকে কলেজের বাসভবনে থাকলেও কামরুন নাহার কখনো নিজ অফিসে বসেন না। অভিভাবকরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও তিনি কারো সঙ্গে দেখা করেন না। ভিকারুননিসার যেসব শিক্ষার্থীর অভিভাবক মারা গেছেন, তাদের বিনা বেতনে পড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হলেও সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার স্কুলের জন্য সময় দিতে পারেন না বলে অধ্যক্ষ বেপরোয়া হয়ে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

এদিকে ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপের অডিওকে ভিত্তিহীন ও সুপার এডিটেড বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুল।

অভিভাবক ফোরামের এই অভিযোগ এবং ফাঁস হওয়া ফোনালাপ প্রসঙ্গে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুলের বক্তব্য:

এক সময়ের ডাকসাইটে এই ছাত্রনেত্রী বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে আসার তিন দিনের মাথায় তারা আমাকে গালিগালাজ শুরু করেন। তাদের কথা মতো নাকি আমাকে চলতে হবে। এর আগের প্রিন্সিপালকে তারা মোবাইল ছুঁড়ে মেরেছে। আমার বাসায় ঢিল মারে। আমার দরজায় লাথি মেরেছে। লাথি মেরে আমার চেয়ার ফেলে দিয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মেধাবী এই ছাত্রী বলেন, ‘ওরা চায় (অভিভাবক ফোরাম) আমি কিছু আসন ফাঁকা রাখি যাতে তারা ভর্তি বাণিজ্য করতে পারে। আমি বলেছি শিক্ষামন্ত্রী আমাকে এখানে থাকতে বলেছেন। এ প্রতিষ্ঠানকে ঠিক করার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। আমি যদি এদের কথায় ভর্তি বাণিজ্যের অনিয়ম করি, মন্ত্রীর কাছে আমি তখন কী জবাব দেবো। আমার ইতিহাসে অন্যায়ের কোনো দাগ নেই। এর আগের কোনো প্রিন্সিপাল এখানে কেনো থাকতে পারেনি, এখন বুঝতে পেরেছি।’

নীতির সঙ্গে আপোষ না করা শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এবারের ভর্তির লটারির সময়ও তারা ১২০টি সিট খালি রেখেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০-৬০ সিট খালি আছে। মূলত সেগুলোতে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে তারা আমাকে অনেক আগে থেকে চাপ দিচ্ছে।’

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘মূলত ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে পেরে না উঠে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ ষড়যন্ত্র করছেন জিবি সদস্য ও অভিভাবক ফোরামের লোকজন। আমি এ প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে চাই। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই। প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করতে এটি তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে চাই। আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন।’

এরআগে তিনি ইডেন কলেজের শিক্ষকতায় ছিলেন। সেখানেও থাকা অবস্থায় অন্যায় ও অনিয়মের সঙ্গে লড়াই করেছি দাবি করেন এই শিক্ষক।
তবে সচেতন মহল ও ভিডিও মেকারের সাথে সম্পৃক্ত অনেকের দাবি সুপার এডিট করে এরকম অডিও কল রেকর্ডিং করা অসম্ভব। এটি রিয়েল অডিও।
এ ব্যাপারে সরকারের জরুরী পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

সূত্র:

ঢাকা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :